Skip to main content

Full text of "Brahammachariya Ed. 1st"

See other formats




( মহাত্মা গান্ধী লিখিত ) 


'স্থইজারল্যাণ্ডের স্বাধীনতা+১*বিপ্লবের আহ্তি,। 


“হিন্দু সংগঠন? প্রভৃতি গ্রন্থ-প্রণেত। 








পিস সি ৯ 
৮ ১৩ রর এসি 
রর ক 
সি মু 
প্রীবিনয়কৃষ্ণ সেন ৯ 3 
ৃ তেন 
সঙ্ধলিত :, শ্াপিউপিউদাপছ তু 
৮ রি টির রর 
১৪৯. 1১ । 
৮ নি রর 44 
০ ্ সত ++ গং ০ 
ঝোল ছে ৮ 
তরুণ সাহিত্য মন্দির, 
১৯ শ্রাগোপাল মল্লিক লেন, 
কলিকাতা 


| মুল্য 1/* পাচ আন? মাত্র 


গ্রকাশক 


শ্রীবিনয়কৃষ্ণ সেন, 
তরুণ লাহিত্য মন্দির 
১৯, শ্রীগোপাঁল মলিক লেন, 
কলিকাত। ২ ) 
১৪৫ 
রে রি এ € 
7 ৯. .€ . 
. ২৩ 76 
্‌ ৮১ রঃ 
চে (৯৮ 
% 4) . 
প্রথম সংস্করণ-_ অগ্রহায়ণ, ১৩৫ 
প্রবাসী প্রেস, 
৯১১ আপার সাকুলার রোড, 
কলিকাতা 


শ্রীদজনীকাস্ত দাস কর্তৃক মুদ্রিত 





হিন্দী-নবজীবন”,। “ইয়ঙ্ট্গ ইণ্ডিয়া” এবং 5০110২98010 

|) 55:505 56161051657 নামক পুস্তকে হাতা গান্ধী ্রহ্মচরয্য 

সম্বন্ধে যে সব প্রবন্ধ লিখিয়াছেন, তাহার অনেকগুলির 
অনুবাদ “'ত্রহ্মচধ্য” নাম দিয়! প্রকাশ করিলাম । 


কলিকাতা শ্রীবিনয়কৃষ্ণ সেন 


ৎ 


৩ 


৬ 


৮ 


রী 


১৪ 


প্র বারা 


ূ 


এপ্রাজাার। পর পার পার 


আও পরার 


মৃচা 
বিষয় 
সংঘথের গ্রয়োজনীয়ত। 
গোপন কথা 
ব্য 
আত্ম-ংযম 
সভ্য বনাম ব্রন্ষত্য 
গবিভ্রতা 
জীবনী-শি সঞ্ধয 


'আত্ব বথা 


জন্ম-নিরোধ 
শেষ কথ 


৩৩ 
৩৭ 
৪ 
৫১ 


৫$ 


রা ৭. 
পতন ৩ ভব 5 ডং 5 


&্‌ 
সংযমের প্রয়োজনীয়তা :... 

হবস্থ্যরক্ষার নান। উপায় আছে। হহার প্রত্যেকটি বিশেষ 
প্রয়োজনীয়; কিন্তু সকলের চেয়ে বেশী দরকারী ত্রহ্ষচর্ধ্য । বিশুদ্ধ বায়ু, 
নিশ্বল জল এবং পুষ্টিকর খাদ্যই স্বাস্থ্যরক্ষার সাহায্য করে। কিন্তু 
যে শক্তি আমরা সঞ্চয় করি তাহা ব্যয় করিয়া ফেজিলে আমর! 
কিরূপে সুস্থ থাকিব? যেঅর্থ আমরা উপাজ্জন করি তাহ! খরচ 
করিয়া ফেলিলে আমর! কিরূপে দরিদ্র না হইয়! পারি? 
খাটি ব্রহ্মচধ্য পালন না করিলে, নর-নারী কখনও বলবান হইতে 
পারে না। 

্রন্ষচধধ্য কি? ইহার অথ এই, নর-নারী পরস্পর সম্বন্ধে কাম-চিস্তা 
হইতে বিরত থাকিবে । তাহার কামচিস্তার সহিত পরস্পরকে স্পর্শ 
করিবে না, স্বপ্নেও এক্প চিন্তাকে মনে স্থান দিবে ন। তাহাদের 
পরস্পরের দৃষ্টি সর্বপ্রকার কাম-গন্ধ-হীন হইবে। যে গুপ্-শক্তি 
ভগবান আমাদিগকে দিয়াছেন তাহা কঠোর নিয়মাঙ্ছবত্তিতার দ্বারা 
রক্ষা করিয়। কেবলম্াঞ্জ শারীরিক নহে, মানসিক ও আত্মিক উদ্যম 
ও শর্ত বর্ধিত করিতে হইবে । 


্া চে 
7 পি, ও 


্রহ্মচর্ষয 

কিন্তু চারপাশে আমরা কি দৃশ্ত দেখিয়া থাকি? নর-নারী 
ষুবক-বুদ্ধ উন্দিদ্-সেবায় নিরত। কামাদন্ধ হইয়া, তাহার হ্যায-অন্যায় 
বিচার শক্তি হারায় । দেখিঘ্রাছি ইহার মারাত্মক্ক প্রভ।বে।পড়িয়া 
বালক-বালিকর! পরাস্ত পাগলের ্ায় ব্যবহার করে! ঠিক এইব্দপ 
প্রভাবে পড়িয়। আমিও এবপ করগ্বাঞ্ছি, ইহার অন্যথা হইবার উপায়ও 
ছিল না । যে জীবনী-শক্তি আমরা কঠিন পরিশ্রঘ সহকারে সঞ্চয় 
করি, ক্ষণিক সুখের জন্ক তাহা মুহূর্তের মধ্যে বিসঙ্জন দয়া থাক । 
মোহ দূর হইলে, আমাদের অবস্থা শোচনীয় হয়। পরাদন প্রাতঃকালে 
আমরা ভয়ানক দুর্বলতা এবং ক্লান্তি অন্নুভব করি; এবং মন কোনো 
কাজ কারতে চায় না। ক্ষতিপূরণ করিবার আশায় আমরা প্রচুণ 
পরমাণ ছুষ্ধ মোদক প্রভৃতি সেবন করি? স্বায়বিক দৌর্ধল্য দূর 
করিবার জন্ত সব রকম টনিক খাই এবং শরীরের ক্ষয়পূরণ করিবার 
ও ইন্দ্রিয়-শক্তিলাভের জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হই ।. এরূপে দিনের 
পর দিনঃ বৎসরের পর বৎ্পর চলিয়া! যায়। ক্রমে আমর্খা বুদ্ধ হহ--- 
তখন আমাদের শরার ও মনের শক্তি সম্পুণরূপে নষ্ট হইয়। যায়। 

কস্ত প্রকৃতির নিয়ম ঠিক ইহার ?বপরাত । আমরা যত বৃদ্ধ 
৬ব আমাদের বুদ্ধি তত তীক্ষ হইবে; যতদ্দীর্ঘ দিন আমর! বাচিব 
আমাদের সঞ্চিত অভিজ্ঞতার ফল অন্যলোকের উপকারে লাগানর 
শক্তি তত বাড়িবে। ধাহার1 খাটি ব্রর্খচারী তাহাদের পক্ষে এ কথা 
শিশ্চয়ই খাটে । ম্বত্যুভন্ন তাহাদের নীহ$ এবং মৃত্যুকালেও তীাহাগা 
ভগবানকে ভোলেন না। তাহার! মিথ্যা। আশ! লইয়া! মত্ত থাকেন না। 
তাহার! হাসিতে হাসিতে মৃত্যুর সম্মুখীন হন, এবং শেষদিনের জন্য 
বীরের স্তায় অপেক্ষা করেন। ইহারা খাটি মানুষ, শুধু ইহাদের: 
সম্বন্ধে একথা বলা চলে যে, ইহার! স্বাস্থ্য রক্ষা করিয়াছেন । 

২ 


“: +সংযমের প্রয়োজনীয়তা 
আমরা কদাচিৎ ভাবিয়া দেখি যে, অসংযমই জগতের অধিকাংশ 
দন্ত, রাগ; ভয় এবং হিংসার. মূল। আমাদের মন যদি আমাদের 
ঝুঁশে না থাকে, যদি প্রত্যেকদিন এক অথবা একাধিকবার আমরা ছোট 
শিশুর অপেক্ষা মূর্খেব ন্যায় কাবহার করি, তবে জ্ঞাত অথব। অজ্ঞাত- 
মারে কোন্‌.পাপ আমর! না করিতে পারি? আমাদের কাজ যতই 
খারাপ ও পাপপুর্ণ হউক না কেন, তাহার ফল সম্বন্ধে কিরূপে আমর! 
চিন্ত। না করিয়া পাবি ? | 

কি প্রশ্ন উঠিতে পারে, “এব্প খাটি ত্রহ্ষচারী কে কবে কোথায় 
দেখেছে? দি সব দোরকুচারী হ হয়, তবে কি মানব জাতি লোপ 
পেয়ে সমগ্র জগৎ ধ্বংন হয়ে যাবে ন1?” ধর্মের দ্রিকট। বাদ দিয়া 
ওধু-পার্থিব দিক দিয়া এই প্রশ্ন আলোচনা করিব। আমার মনে হয়, 
এব্প প্রশ্ন শ্বধু'আঁমাদের ভীরুতার পরিচয় দেয়। ক্র্মচধ্য পালন করিতে 
যে-ইচ্ছাশক্তির দরকার, তাহা আমাদের নাই, সেজন্য আমর ওজর 
আপত্তি দেখাহ। খাটি ব্রহ্মৃচারী সম্প্রদায় লুপ্ত হইয়া যায় নাই। কিন্তু 
যদি তাহাদিগকে যখন-তখন দেখা যাইত, তবে ব্রহ্মচর্ষেযের মুল্য 
কি থাঁকিত? হাজাব হাজার শ্রমিক পৃথিবীর অভ্যন্তরে গভীর গর্ত 
করিয়া স্তপ স্তুপ পাহাড কাটিয়া একটু হীরক খুঁজিয়। বাহির করে। 
ইহা অপেক্ষা! অনেক গুণ মুল্যবান ব্রহ্গমচর্ধ্য পালন করার জন্য কত 
বেশী পরিশ্রম করা উচিত! ব্রচ্মচ্য পালন করিতে গেলে জগৎ লুগ্ত 
হইয়া! বাইবে, এরূপ চিন্তা আমাদের না করাই ঠিক; আমরা কি 
ভগবান যে, আমর] জগতের শবিষ্যৎ সম্বন্ধে এত চিন্তিত হইব? 
ধিনি ইহা কুষ্টি করিয়াছেন তিনিই ইহা রক্ষা করিবেন। অন্ত লোক 
ব্রহ্মচধ্য পালন করে কি না, তাহা লইয়া মাথা ঘামাইবার দরকার 
নাই। যখন আমর! কোনে] কাররার অথবা কান্ধ করিত সরু করি, 


ব্রহ্মচর্য্য 


তখন কি আমরা ভাবিয়া থাকি, ষ্দি সকলেই ইহ] করে, তবে পৃথিবীর 
অবস্থা কি হইবে? খাঁটি ব্রহ্মচারী শেষ পর্যন্ত এইব্প প্রশ্নের উত্তর 
নিজেই পাইবেন। ৃঁ 

কিন্তু যাহারা পার্থিব চিন্তায় বিত্রত, তাহারা এই আদর্শ কিন্ধুপে 
কাধ্যে পরিণত করিবে? বিবাহিতের। কি করিবে? যাহাদের সস্তান- 
সম্ভতি আছে তাহারা কি করিবে? যাহার] আপনাদিগকে সংষত্ত 
রাখিতে পারে না তাহারা কি করিবে? পূর্বেই দেখাইয়াছি 
এক শ্রেষ্ট আদর্শে আমাদিগকে পৌছিতে হইবে । এই আদর্শ সর্ববদ! 
চক্ষের সামনে রাঁখিহ। সেখানে পৌছানর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করিতে 
হইবে। শিশুদিগকে বর্ণমাল। শিক্ষা দিবার সময় আমরা তাহাদিগকে 
সম্পূর্ণ অক্ষরই দেখাই, এবং তাহারা যথাসাধ্য এ অক্ষর লিখিতে চেষ্টা 
করে। এইরূপে আদশ ব্রহ্মচর্য্ের প্রতি দৃষ্টি রাখিয়া, দৃঢ়তার সহিত 
কাজ করিয়া গেলে আমরা পরিশেষে সফলকাম হইতে পারি। বিবা- 
হিত জীবন হইলেই ব1 ক্ষতি কি? প্ররুতির নিয়ম এই, যখন ক্বামী- 
স্ত্রী সম্তানলাভের ইচ্ছা করিবে, তখন ব্রহ্ষচধ্য ভঙ্গ করা চলে। ইহ! 
মনে রাখিয়া ধাহার1 চার-পাঁচ বৎসরের ভিতর একদিন ব্রহ্মচধ্যের নিয়ম 
লঙ্ঘন করেন, তাহারা কামের দাস নহেন ; তাহারা সঞ্চিত জীবনী- 
শক্তির বেশী-কিছু হারাইবেন না। কিন্তু হায়, শুধু সম্তানলাভের জন্য 
সহবাস করেন এরপ স্ত্রী-পুরুষের সংখ্যা কত কম। অধিকাংশ লোকে 
কামপ্রপীড়িত হইয়াই ইন্দরিয়-চরিতার্থ করে__ফলে ইচ্ছার বিরুদ্ধেই 
তাহাদের সন্তান জন্মে । ইন্দ্রিয়স্থথে পাগল হইয়। আমাদের কাজের 
পরিণাম সম্বন্ধে আমর] কিছু ভাবি না। এবিষয়ে নারী অপেক্ষ! 
পুরুষজাতি অধিক দোষী । পুরুষ এত কামান্ধ যে, স্ত্রীর শরীর দুর্বল 
কিনা, সে গর্ভধারণ করিতে এবং সন্তান পালন করিতে সক্ষম 

৪ 


সংযমের প্রয়োজনীয়ত। 


কিনা, সে-চিস্তা সে কখনও করে না। পাশ্চাতাদেশে লোকে সকল 
সীমা অতিক্রম করিয়াছে । তাহারা ইন্দ্রিয়সেব। করে, কিন্তু পিতামাতার 
দাক্সিত্ব হইতে মুক্তি পাইবার জন্ত কৃত্মিম উপায় অবলম্বন করে। এই 
বিষয়ে অনেক বই লেখ হইয়াছে এবং সন্তান নিরোধ করার জন্য নিয়- 
মিততভাবে ব্যবসায় চলিতেছে । আমরা এখনও এই পাপ হইতে মুক্ত, 
কিন্তু নারীর উপর মাতৃত্বের বোঝ। চাপাহতে সঙ্কোচবোধ করি না এবং 
একবার এ-চিস্তাও কার সা যে, আমাদের শিশুগণ শ্তি-সামর্ঘ্হীন। 
সন্তান জন্মিলে প্রত্যেকবার আমর ভগবানকে ধন্তবাদ দ এবং এই- 
রূপে আমাদের পাপ ঢাকিতে চেষ্টা করি। ছুর্ববল, হী্্য়পরায়ণ, 
[বকলাঙ্গ এবং ভীরু সম্তান লাভ করিয়া নিজদিগকে ভগবানের 
ক্রোধের পাত্র মনে করা কি উচিত নয়? বালকবালিকার সম্তান হওয়। 
কি আনন্দের বিষয় ? ইহা কি বরং একপ্রকার অভিশাপ নহে? কোনো 
চারা গাছের ফল হইলে, গাছ দুর্বল হয়, এজন্য যাহাতে ফপ বিপদ্বে 
হয় ভাহার জন্ত সকণ চেগ্াহ আমা কাঁপ। কিন্তু বালক-বালিক। 
সস্তানের পিতামাত! হইলে, আমরা ভগবানের প্রশংলাগীতি গাহি। 
ইহা অপেক্ষা বেশী ভয়ানক কি কিছু হইতে পাবে? আমরা কি 
মনে করি ভারতে এবং অন্থত্র এইরূপ অসংখ্য শিশু বাড়িতে থাকিলে 
জগতের মুক্ত আসবে? এ-বি্ষয়ে আমরা ইতর প্রাণী অপেক্ষ। 
অনেক হান; কারণ তাহারা শুধু সন্তান উৎপত্তির, জন্য সহবাস 
করে। গরধারণের সময় হইতে শিশুর দুপ্ধত্যাগের লময় পধ্যস্ত নর- 
নারীর পৃথক থাক? অবশ্কর্তব্য । কিন্ত প্রাণঘাতী আমোদ-প্রমোদে 
মাতিয়। আমর! এই মহান্‌ কর্তব্যের কথ। ভূলিয়া যাই। এই ছুরারোগ্য 
ব্যাধি আমাদের মনকে দুর্বল করে এবং অল্পদিনের মধ্যে আমাদের 
ছুঃখময় জীবনের অবসান করে । বিবাহের প্রকৃত উদ্দেশ্ত কি, বিবাহিত 
৫ 


ব্রহ্মচধ্য 
লোকে তাহা যেন বুঝেন এবং সম্তানলাভের ইচ্ছা না হইলে যেন 
ত্রহ্ষচর্যা ভঙ্গ না করেন। 

কিন্ত আমাদের বর্তমান অবস্থায় এ পথে চলা বড় শক্ত । আমাদের 
খাদা, জীবন্যাপনপ্রণাশী, কথাবার্তা, পারিপার্থিক অবস্থা মন ষে, 
ইহার প্রত্যেকটি আমাদের হীন্দ্রি়্গকে উত্তেজিত সবে । উন্দরিয়ু- 
পরায়ণতা। বিষের ন্যাঁ় আমাদের জীবনীশক্তি নষ্ট করিতেছে । এ 
দাসত্ব হইতে আমাদের মুক্ত ভগুদার সম্ভাবনাকে কেহ বেড 
অবিশ্বাস করিতে পারেন 1 হাগারা এইরূপ সন্দেচে করেন 
তাহাদের জন্য এই বই লেখা হম নাই, খাঙ্ারা ইভা লাঙ্গের জন্য 
আগ্রহ্থান্বত এবং আত্মোন্সতির জন্য সচেষ্টঃ2 এ বহু তাহাদের 
জন্য । ধাতারা আপনাদের বর্তনান শোচনীঘ অবস্থায় সন্ধঞ 
আছেন, তাহারা ইহা পড়াও কষ্টকর মনে কবিতে পাবেন 7 কিন্তু ধাহাবা 
নিজেদের শোচনীয় অবস্থা বুঝিয়াছেন, ইহা তাহাদের কজে লাগিবে। 

ষে-কিছু বল। হইয়াছে তাহা হইতে বুঝা যাইবে যে? খাহার। 
এখন অবিবাঁভিত আছেন, তাহারা যেন অবিবাহিত থাকিতে চেষ্টা 
করেন; কিন্তু যদি তাহারা বিবাহ না কিয়! থাকিতে পাবেন না, তবে 
খতদুর জন্তব দেরী করিয়। যেন বিবাহ কবেন। যুবকেবা যেন প্রতিজ্ঞা 
করেন যে, তাহারা ২৫।)৩* বৎসর পধ্যস্ত অবিবাহিত থাকি" 
বেন। ত্রহ্মচ্য পালন করিলে শারীরিক উপকার ভিন্ন অন্থান্ত যে-সব 
উপকার পাওছা যামু» সে কথা এখানে আলোচন। করিব ন]। 

যে-সব অভিভাবক এই অধ্যায় পভিবেন, তাহাদের নিকট আমার 
অন্গরোধ, অল্প বয়মে বিবাহ দিদা তাহাবা যেন তীচাদ্দের শিশু- 
পুত্রদের গণাধ পাষাণ বীধিয়া না দেন। নিজেদের বুথা অভিমান 
চরিতার্থের পরিবর্তে, তাহারা যেন তাহাঞঙ্জের ভবিষ্যৎ বংশীয়দের 


৬ 


সংষমের প্রয়োজনীয়তা 


নূঙ্জলের প্রতি লক্ষ্য রাপেন। তীহার।? যেন বংশগৌরব অথবা সম্মান 
সম্বন্ধে সব-রকম ভ্রান্ত ধারণা হইতে মুক্ত হন এবং এরূপ হ্বদয়হীন 
প্রধাব শোতে গা ভাসাইয়া না দ্রেন। যদি তাহারা সন্তানসস্তরতির 
ধকৃত হিতাকাজ্ষী হন, তবে তাহারা যেন তাহাদের শারীরিক, 
মানসিক ও নৈতিক উন্নতিব প্রতি দৃষ্টি পাখেন। যখন তাহারা শিশু- 
মাত্র, তখন তাহাদের বিবভ দ্িষা এবং বিবাহিত জীবনের গুরু দায়িতৃ 
ও ভাবনা-চিন্তা তাহাঁদেক ঘাড়ে চাপাইয়। দিয়, অভিভাবকগণ আপন 
আপন সম্ভান-সম্ততির ভীষণ অনিষ্ট করেন। 

পরকুত স্বাস্থানীতি অনুসারে বিপত্বীক এবং বিধবার পুনর্বিবা 
করা ঠিক নহে । যুবক-যুবতীর জীবনীশক্তি মাঝে মাঝে নষ্ট 
হইতে দেওয়া উচিত কি না, 'এ সম্বন্ধে ডাক্তারদের ভিতর মতভেদ 
'আতে; কেহ কেহ বলেন ইভা উচিত, কেহ কেহ বলেন 'অন্ুচিত। 
ডাক্তাওদের ভিতর যখন এই মতভেদ আছে, তখন ডাক্তাররা সমর্থন 
করেন ভাবিদ্বা, আমরা যেন বেপরোয়াভাবে ইন্দ্রি়স্বো না করি। 
নিজের এবং অন্যের আঁভজ্ঞ্) ভইতে নিঃসঙ্কোচে বাঁলতে পারি যে, 
্বাস্থ্য-রক্ষা্ড জন্য সহবাস কেৰলমান্। অনাঁবশ্তক নহে, বরং ইহ| বিশেষ 
অনিষ্টকর 1 ষে শাদীরক ও মানসিক শক্তি আমরা অনেকক্ষণ 
ধরিয়া সঞ্চয় করি, বীধোর একবারমাত্র অপব্যবহারে তাহা মুহ্য্তই নষ্ট 
হয়। এই প্রনষ্ট জীবনী-শক্তি উদ্ধার করিতে অনেক সময় আবশ্যক 
হয়, এবং একথা বলাও চলে না যে, ইন সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার কর 
যায়। ভাঙ্গা আয়ন! মেরামত করিয়া কান্ত চালান যায়, কিন্তু ইহা 
ভাঙ্গা! আয়ন] ভিন্ন আর কিছুই নহে। 

পূর্বের দেখান হইয়াছে ষে, বিশুদ্ধ বায়ু, নিশ্মল জল, স্বাস্থ্যকর খাদ্য 
এবং পবিত্র চিন্তা ভিন্ন জীবনী-শক্তি রক্ষা করা অসম্ভব । স্বাস্থ্য ও 


ব্রন্মচধ্য 


নীতি-ধম্মের সম্বন্ধ এরূপ ঘনিষ্ট যে, পবিত্র জীবনযাপন না করিলে, 
আমরা সম্পূর্ণ স্থস্থ হইতে পারি না। অতীতের-তুল ক্রটার কথা 
ভুলিয়া, যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সহিত পবিভ্র জীবন-যাপন করিতে, চেষ্ট! 
কাঁরবে, মে অচিরে ইহার ফল পাইবে । ধাহার৷ অল্প সময়ের জন্যও 
ত্রন্মচধ্য পালন করেন, তাহারাও দেখিবেন, তাহাদের শরীর ও মনের 
শক্তি যথেষ্ট বৃদ্ধি হইয়াছে এবং কোনোমতে তাভারা এই সম্পত্তি 
ত্যাগ করিতে রাজী হইবেন না। ব্রহ্মচধ্যের মুল্য পূর্ণভাবে বুঝিয়াও, 
আমি ইহা ভঙ্গ করিয়ীছ এবং এঞজন্ত যথেষ্ট ভূগিয়াছি। এই 
পনের আগের এবং পরের অবস্থার কথা! তুলনা করিতে গেলে, 
আমি লজ্জা ও অন্ুতাপে মরি! বাই। কিন্তু অতীতের তুল 
হইতে আমি এই সম্পত্তি অটুটভাবে রক্ষা করিতে শিখিয়াছি ; 
এবং পুর্ণ বিশ্বান করি, ভগবানের করুণান্ন ভবিষাতে আমি ইহ! 
রক্ষা! কারিতে পারিব; কারণ আমি নিজে ব্রঙ্ষচধ্যের অমূল্য ফলের 
স্বাদ গাইয়াছি। বাল্যকালে আমার বিবাহ হইয়াছিল এবং অল্প বয়- 
সই আমি সন্তানের পিতা হইয়াছিলাম। পরে আমার প্রকৃত 
অবস্থা বুঝিতে পারিয়া দেখিলাম, মানবজীবনের মুল নিয়ম-সন্বন্ধে 
আম কত অজ্ঞ । যদি অন্ততঃ পক্ষে একজন পাঠকও আমার পতন 
এবং অভিজ্ঞতার কথা জানম়। হুশিয়ার ও লাভবান হয়, তবে এই 
অধ্যায় লেখ সার্থক হইয়াছে মনে করিব। অনেকে আমাকে বলিয়া- 
ছেন, এবং আমিও ইহ। বিশ্বাস করি যে, আমার যথেষ্ট উৎসাহ ও 
শক্তি আছে এবং আমার মন কোনোব্ধপে দুর্বল নহে । কেহ কেহ 
বলেন, আমার শক্তি এত বেশী যে, আমাকে একগুয়ে বলাও চলে 

তথাপি অতীতের কাধ্যের ফলম্বপ্ূপ আমার মানসিক ও শারীরিক 
অন্থস্থতা আছে। অবশ্ত বন্ধুদের তুলনায় আমি নিজেকে স্স্থ ও বল- 


৮ 


সংষমের প্রয়োজনীয়ত। 


বান বলিতে পারি। বিশ বৎসর ইন্দ্রিঘসেবার পরও, আমি যখন এ 
অবস্থায় পৌছিতে পারিয়াছি, তখন এ বিশ বৎসরও যর্দি পবিত্র 
থাকিতে পারিতামঃ তবে আমার অবস্থা আরও কত ভাল হইত! 
আমার এ বিশ্বাস পুরোপুরি আছে, যদ্দি সারাজীবন অখগড ব্রহ্ষচধ্য 
পালন করিতে পারিতাম, তবে আমার উৎসাহ ও শক্তি হাঞ্জার 
গুণ বেশী হইত এবং আমি সেই শক্তি প্রয়োগ করিয়া নিজের ও 
দেশের কাজ করিতাম। ব্রন্ষচধ্য পালন করিতে গিয়!, আমার স্তায় 
অসম্পূর্ণ ব্রদ্মচারী ষদ্দি এত উপকার পাইয়া থাকে, তবে অথপ্ড ব্রহ্মচর্যয 
পালনের ফলে যে শারীরিক, মানসিক ও টৈতিক-শক্তি লাভ হইবে, 
তাহ! কত বিস্ময়জনক ! 

ব্হ্ষচর্যের নিম্ম যখন এত কঠিন, তখন যাহারা অবৈধভাবে 
ইন্দ্রিক্সেবা করে, তাহাদিগকে কি বলিব? ব্যভিচার এবং বেশ্ঠাবৃত্তি 
হইতে উদ্ভূত পাপ, ধন্ম ও নীতিশাস্ত্রের একটি কঠিন সমন্ত।। স্থাস্থা- 
নীতি-গ্রন্থে ইহা পূর্ণভাবে আলোচিত হইতে পারে না। এখানে 
এইটুকু দেখাইব, যাহারা এ-নব পাপে লিপ্ত, তাহার্দের ভিতর সহশ্র 
সহন্র লোকে কুৎসিৎ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এই হিনাবে ভগবান 
দয়ালু যে, তিনি পাপীকে শীঘ্রই শান্তি দ্েন। এইসব লোকের জীবন 
হাতুড়ে চিকিৎসকের শোচনীয় দ্বাসত্বের ভিতর থাকিয়া শীত্র£ শেষ 
হয়--তাহারা বৃথা তাহাদের ব্যাধির ওধধ খু'জিয়! বেড়ায় । ব্যভিচার 
ও বেশ্তাবৃতি বন্ধ হইলে বর্তমানে ধত ডাক্তার আছে, অন্ততঃ পক্ষে 
তার অর্ধেকের কাজ থাকিবে না। এইসব কুৎসিৎ ব্যাধি মানুষকে 
এমনভাবে পাইয়া বনিয়াছে ষে, চিন্তাশীল চিকিৎসকগণ স্বীকার 
করিতে বাধ্য হইয়াছেন যে, যতদিন ব্যভিচার ও বেশ্যাবৃত্তি 
থাকিবে, ব্যাধিনিরাময়ের ওধধ আবিষ্কার হওয়! সত্ব, ততদিন মানব- 

খে 


ব্রহ্মচর্ধ্য 
জাতির কোনো আশা নাই। এইসব ব্যাধির ওষধ এত বিষাক্ত 
যে, সাময়িক উপকার করিলেও তাহারা মারাত্মক রোগ স্থষ্টি করে, 
এবং এইসব রোগ বংশপরম্পরার সংক্রামিত হইয়া থাকে । ্‌ 
কিনূপে বিবাহিত লোকে ব্রহ্মচর্ধয পালন করিবে তাহ সংক্ষেপে 
বলিতোছ। স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য শ্বধু বাতাস, জল ও খাদ্য-সনম্বন্ধে নিয়ম 
পালন করিলেই হইবে না। আ্ত্রীর সহিত স্বামী গোপনে সাক্ষা 
করিবে না। সামান্য চিন্ত। করিলেই বুঝ। যায়, স্বামী-স্ত্রীর গোপনে 
থাকার উদ্দেশ্যই ইন্দ্রিয়সেবা । রাত্রে তাহারা পৃথক পৃথক কুঠরীতে থাকবে 
এবং দিনের বেলায় সর্বদা! ভাল কাজে ব্যাপৃত থাকিবে । তাঁহারা 
এমন সব বই পাড়বে, যাহাতে তাহাদের মন উচ্চ চিন্তায় পূর্ণ হয়। 
তাহার! বড় বড লোকের 'জীবনী আলোচনা করিবে এবং একথা 
সব সময় মনে রাখিবে ষে, ইন্দ্িয়সেব! বহুদুংখের মুল কারণ। কাম- 
প্রবৃতি চরিতার্থ করার ইচ্ছা হইলেই শীতল জলে সান করিবে, ইহাতে 
ইন্দ্রিয়ের উত্তেজন| কমিয়া যাইবে এবং সৎকাজ কগার শক্তি বাড়িবে। 
এ কাজ করা শক্ত; কিন্তু অস্থবিধার সহিত লড়াই করিয়। জয়লাভ 
করার জন্যই আমাদের জন্ম হইয়াছে । এইব্বপ করিবার ।সঙ্কল্প যাহার 
শাই, সে কখনও. প্রকৃত স্বাস্থ্যস্থথ লাভ করিতে পারে না।* 


। গীপ্ধীজীর লেখা গুজরাঁটী আরোগ্য-নীতি বইএর ইংরেজী অনুবাদ হইতে । 


টি 


গোপন কথা 


কৌমাধ্য-ব্রততকে ব্রন্ম5্য বলা চলে--অবশ্ত ত্রহ্মচর্ধ্য কৌমাধা 
অপেক্ষা ব্যাপক । সমস্ত উদ্দ্রিয় ও শরীর আয়তে রাখাই ব্রহ্ধচধ্য | 
পূর্ণ-ব্রদ্ষচারীর পক্ষে কিছুই অসম্ভব নহে। কিন্তু ইহা হইল আর্দশ 
অবস্থ।-লোকে কদাচিৎ এ অবস্থায় পৌছিয়া থাকে । ইউন্লিডের 
রেখ! কল্পনা ওরা চলে, কিন্ত আকা যায় না; তথাঁপ ইহা জ্যামিতির 
এক প্রধান সংজ্ঞ। এবং হহার সাহায্যে অনেক প্রয়োজনীয় কাজ সিদ্ধ 
হয়। পূর্ণব্দ্ষচারার আদর্শ এহরূপ কল্পনার বস্ত । কিন্তু আমরা যদি 
ইহাকে সব সমস্ন মন্চক্ষুর সামনে না রাখি, তবে আমাদের দশ! হাল- 
শৃন্ত জাহাজের ন্যার হহবে। কান্নত আদর্শের হত ধেশী কাছে আমর! 
পৌছিব, ততই আমাদের পূর্ণতা আসবে । 

এখন কৌমাব্য.অথে ব্রদ্ষচধ্য সঞ্থদ্ধে কিছু বলিতে চাঁই। আমি 
বিশ্বাস করি, পূর্ণ আধ্যাত্মকতা লাভ কাঁরিতে হইলে, চিন্তা বাক্য ও 
কাধ্যে পুর্ণ সংযন চাই । থে জাতির ভিতর এরূপ লোক নাই, তাহার 
অবস্থ। শোচনীয় । জাতীর আভব্যক্তির বর্তমান অবস্থায় ইহার সাম- 
গ্রিক প্রয়োজনীয়তা প্রচার করাই আমার উদ্দেশ্য । 

আমাদের ভিতর বেশীমাত্বাম় দারিদ্র্য, ছুর্ভিক্ষ ও ব্যাধি আছে। 
লক্ষ লক্ষ লোক না খাইয়া মারতেছে । দাসত্বের চক্রে পিষ্ট হইয়া 
আমার্দের অবস্থা এমন শোচনীয় হইয়াছে যে, আমাদের অনেকে 


১৯ 


ব্রহ্মচধ্য 


ইহাকে দাসত্ব বলিয়! স্বীকার করিতে চান না; এবং দেশের উপর 
আর্থিক, মানিক ও নৈতিক শোষণবূপ তিন রকম অভিসম্পাৎ থাক 
সত্বে, তাহারা বলেন, দেশ ক্রমশঃ উন্নতি ও শ্বাধীনতার পথে অগ্রসর 
হইতেছে । চিরবদ্ধমান সামরিক বায়) ল্যাঙ্কাশায়ার ও অন্যান্ত ব্রিটিশ 
ত্বার্থের পরিপোষক অনিষ্টকর রাজস্বপ্রথা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগ 
এমন অমিতব্যয়িতার সহিত নিয়ন্ত্রিত হয় যে, ভারতের উপর অতিরিক্ত 
কর বসাইয়া ভারতের দারিক্র্য বুদ্ধি করা হইয়াছে এবং ভারতবাসীর 
রোগ-প্রতিরোধ করার শক্তি কমাইয়।! দেওয়া হইয়াছে । গোখেলের 
কথান্ন বলিব, শামনপ্রথ। জাতীয় উন্নতিকে এত খর্ব করিয়াছে যে, 
আমাদের মধ্যে ধাহার1 খুব শক্তিশালী, তীহাদ্দিগকেও মাথা নীচু 
করিতে হইয়াছে । ভারতকে অম্বতসরে বুকে ভর দিয়া চলিতে 
হইয়াছিল। ইচ্ছ! করিয়াই পাঞ্জাবের অপমান করা এবং ভারতীয় 
মোছলমানদের নিকট প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়। এজন ক্ষমা- 
গ্রার্থনা এবং ভ্রটীস্বীকার পর্যযস্ত করিতে না চাওয়া, নৈতিক শোষণের 
হাল-নমুনা। এগুলি আমাদের আত্মাকে ব্যথিত করে। যদি আমরা 
এই অন্যায় মানিয়৷ লই, তবে আমাদের মনুষ্যত্ব ষোল আনা নষ্ট 
হহতণে। 

এরূপ মনুষ্যত্ব-নষ্টকারী আবহাওয়ার মধ্যে কি জানিয়া শুনিয়া 
আমাদের সম্ভতান উৎপাদন করা ঠিক? যতদিন আমরা !নিজদিগকে 
অসহায় মনে করিব এবং অসহায় থাকিব, ধতদিন ব্যাধি ও তুর্তিক্ষ- 
পীড়িত হইব, ততদিন সন্তান উৎপাদন করিলে শ্বধু গোলাম ও দুর্বল 
লোকের সংখ্যা বাড়ান হইবে। যতদিন ভারত স্বাধীন না হইবে, 
যতদিন ভারতবাসী নিবার্ধয অনাহারজনিত মৃত্যুকে ঠেকাইতে 
না পারিৰে এবং ছুর্তিক্ষকালে ও অন্যসময়ে অন্নাভাব হইতে মুক্ত না 

১২ 


গোপনকথ!- 


হইবে, যতদিন ভারভর্খসী ম্যালেরিয়া, ইনক্ুয়েপ্রা, কলেরা এবং 
অন্তান্ত মহামারী নিবারণের জানলাভ না করিবে, ততদিন আমা- 
দের সন্তানজন্ম দেওয়ার অধিকার নাই । এই অভিশপ্ত দেশে সস্তান- 
জন্মের খবর পাইলে আমি ব্যথিত হই। বৎসরের পর বৎসর 
স্বেচ্ছায় সন্তান-জন্ন ন। দেওয়ার কথ। ভাবিয়া, আমি সম্তোষলাভ 
করিয়াছি । ভারত তার বর্তমান লোকসংখ্যার তত্বাবধান করার 
উপযুক্ত নহে । ইহার কারণ উহা নহে যে, ভারতে বনু লোক 
বাস করে; ইহার কারণ এই, বল প্রয়োগে বিদেশী তার উপর 
কত্ৃত্ব করে এবং বিদেশীর মুলমন্ত্র ক্রমশঃ ভারতের ধনসম্পদ লুণ্ঠন 
করা । 

কিন্ধূপে এই সম্তান-উৎ্পাদ্ন বন্ধ রাখিতে হইবে? ইউরোপে 
যেবধপ নীতিবিগহিত কৃত্রিম উপায়ে ইহা করা হয়, তাহা! করিলে 
চলিবে না, কিন্তু নিয়মানুবর্তিতা ও সংযমের সাহায্যে ইহ! করিতে 
হইবে । মা-বাপ সন্তানকে যেন ব্রন্ষচর্ধ্য পালন করা শিক্ষা দেন। 
হিন্ুশান্তর অনুসারে ২৫ বত্সরের কম বম্সে বালকদের বিবাহ 
দেওয়া নিষিদ্ধ। ভারতের মাদিগকে যাঁদ বুঝান যাইত যে, 
বালক বালিকাদিগরকে বিবাহিত জীবনযাপনের উপযোগী শিক্ষ। 
দেওয়া পাপ, তবে ভারতের অদ্ধেক বিবাহ আপনা হইতে বন্ধ 
হইত। এ দেশ উষ্ণপ্রধান বলিয়া, বালিকাদের গর্ভধারণ শক্তি 
অল্পবয়সে উৎপন্ন হয়, এই ভূয়া কথায় যেন আমর। বিশ্বাস না 
করি। ইহার চেম্সে সাংঘাতিক কুসংস্কারের কথা আমি জান ন1। 
আমি বিশেষ ভোরের সহিত বলিতেছি, গর্ভধারণের বয়সের 
সহিত আবহাওয়ার ,.কোনো সম্বন্ধ নাই। আমাদের পাঁরবারিক 
জীবনের মানসিক ও নৈতিক বেষ্টনীই অসময়ে গর্ভধারণের মূল কারণ। 


১৩ 


ব্রহ্মচর্য্য 


নির্দিষ্ট বয়সে যে তাহাদের বিবাহ হইবে, একথা মা এবং অপর 
আত্মীয়ের! ধন্মকাজের ন্যায় শিশুদ্দিগকে শিক্ষা দেন। শিশুকালে, 
এমন কি কোলে থাকিতেও, তাহাদের বিবাহের কথা ঠিক হয়। 
শিশুদের পোষাক ও খাদ্য ইন্দ্রিয়ের উত্তেজক । শিশুদের স্থখ-শ্বচ্ছন্দতার 
প্রতি লক্ষ্য না রাখিয়া, আমাদের নিজেদের খেয়াল তৃপ্তির জন্ত আমর 
তাহাদিগকে পুতুলের মত সাজাই । আমি অনেক শিশুকে লালন 
পালন করিয়াছি । যে রকম পোষাক তাহাদ্দিগকে দিয়াছি, তাহাই 
তাহারা সানন্দে গ্রহণ করিয়াছে। আমরা তাহার্দিগকে সবরকম 
গরম উত্তেজক খার্দা খাইভে দেই। মোহবশে তাহাদের শভিির 
কথা ভাবি না। ফলে অসময়ে যৌবন প্রাপ্তি, অপ্রাপ্ত বয়সে সম্তান- 
সম্ততির জন্ম এবং অকাল-মৃত্যু হয়। পিতামাতার দৃষ্টান্ত বালকের! 
সহন্জে গ্রহণ করে। নিজেরা বেপরোয়াভাবে ইন্দ্রিয়ের সেবা করিয়া, 
তাহারা শিশদের নিকট অসংযত জীবনের আদর্শ হইয়া উঠেন। 
অসময়ে যখনই কোনো নৃতন জীব পরিবারে দেখা দেয়, তখনই 
আমোদ-প্রমোদ ও নিমন্ত্রণের ঘট] পড়িয়া যায়। যেরূপ আবহাওয়ার 
ভিতর আমরা থাকি, তাহাতে যে আমরা আরও অসংযত হই নাই, 
ইহাই আশ্চর্যের বিষয় । আমার ইহাতে একটুও সন্দেহ নাই যে, 
বিবাহিত লোকে যদ্দি দেশের মঙ্গল চান এবং ভারতভূমিকে 
সুন্দর শক্তিশালী পূর্ণাবয়ব পুরুষ ও স্ত্রী দ্বারা অধ্যুষিত দেখিতে ইচ্ছ। 
করেন, তবে তাহারা ষেন!সাময়িকভাবে পূর্ণ সংযম অত্যাস করেন ও 
সন্তান উৎপত্তি বন্ধ রাখেন। নৃতন বিবাহিতদ্দিগকেও আমি এই 
পরামশ দেই । মাতাল অথবা পরিমিত ম্দ্যপানকারী অপেক্ষা ষিনি 
কোনো দিন মদ খান নাই, তাঁর পক্ষে মদ না খাইয়া থাকা যেমন 
বেশী সহজ, তেমনি কোনো কাজ আরম্ভ করিয়া ছাড়িয়া দেওয়া 
১৪ 


গোপনকথা। 

অপেক্ষা, তাহা মোটেই আরম্ভ না! করা উচিত। মাটিতে পড়িয়! 
উঠার অপেক্ষা! প্রথম হইতে খাড়। থাকা সহজ। ধাহারা বলেন, 
যাহাদদের ভোগবাসন। তৃপ্ত হইয়াছে, কেবল তাহাদের নিকট সংযমের 
কথা বল! উচিত, তাহারা ভূল করেন। দুর্বল দেহধ!রীর নিকট 
মের কথা বলায় কোনে লাভ নাই। আমার কথা এই, 
আমরা যুবকই হই অথব। বৃদ্ধ হই, তৃপ্ত অথব1 অতৃপ্ত হই, বর্তমান 
সময়ে গোলামের সংখ্যাবৃদ্ধি না করাই আমাদের কর্তব্য। 

স্বামী-ন্ত্রীকে বলিব, তীহারা যেন পরস্পরের অধিকারের 
কথ। না ভাবেন । অসংযমের পথে চলার জন্য সম্মতির দরকার, 
সংযমের পথে চলার জন্য ইহার দরকার নাই, ইহা স্পই্ সত্য। 

জীবন-মরণ সমস্যা লইয়া আমর যখন শক্তিশালী গভর্ণমেন্টের 
সহিত বিরোধ করিতেছি, তখন ইহার জন্ঠ আমাদের সমস্ত শারীরিক, 
মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শাক্ত প্রয়োগ করিতে হইবে। যে 
জিনিষ সর্বাপেক্ষা মূল্যবান, তাহা আয়ত্ত করিতে না পারিলে, 
আমর এই যুদ্ধে জয়ী হইতে পারিব না । এই ব্যক্তিগত পবিত্রতা 
না আসিলে, আমরা গোলামের জাতি থাকিয়া যাইব। শাসন- 
প্রথাকে দুষিত মনে করি বলিয়া, ইংরেজদ্িগকে যেনন আমর! হান 
মনে নাকরি। ইহাতে আত্মবঞ্চনা করা হইবে । কোনে! আড়ম্বর 
না করিয়া তাহার নিজ নিজ জীবনকে ধশ্মপথে চালায় । আমাদের 
দেশে যত কৌমার্ধ্যব্রতধারী স্ত্রী পুরুষ আছে, তাহাদের দেশে তাহা 
অপেক্ষা অনেক বেশী আছে । আমাদের দেশে কুমারী নাই বলিলেই 
চলে। অবশ যাহারা রাজনীতির কোনো ধার ধারেন না, এরূপ 
কতকগুলি মঠবাদিনী নারী আছেন। কিন্তু ইউরোপে হাজার 
হাজার কৌমাধ্যব্রতধারী নারী আছেন। 

১৫ 


ব্রন্মচধ্য 


আমি পাঠকদের সামনে এখন কয়েকটি সরল নিয়ম পেশ করিব। 
এগুলি শুধু আমার ও আমার সঙ্গীদের অনেকের অভিজ্ঞতা'লন। 

(১) বালক বালিকাদিগকে এরূপ শিক্ষা দিতে হইবে ষে, 
তাহারা যেন পুরোপুরি বিশ্বাস করিতে পারে, তাহারা নিষ্পাপ এবং 
নিষ্পাপ থাকিতে পারে । 

(২) সকলে গরম উত্তেজক দ্রব্য, লঙ্কার ন্যায় মশলা, চর্ব্বিষুক্ত 
জমাট খাদা, মিষ্টদ্রব্য এবং ভাজ জিনিষ বর্জন করিবে । 

(৩) স্বামী স্ত্রী পৃথক ঘরে থাকিবে এবং কখনও নিজ্জনে 

সাক্ষাৎ করিবে না। 

(৪) শরীর ও মনকে সব সময় সৎকাজে নিয়োজিত রাখিবে। 

(৫) সকালে শোয়! এবং সকালে বিছানা হইতে উঠ! কঠোরভাবে 
পালন করিতে হইবে। 

(৬) সবরকম কদর্য্য সাহিত্য বঙ্জন করিতে হইবে । সংচিস্তাই 
কুচিস্তা দূর করিবার উপায় । 

(৭) ইন্দ্রিয়-উত্তেজক থিয়েটার বায়স্কোপ প্রভৃতি বর্জন করিতে 
হইবে। 

(৮) স্বপ্রর্দোষ হইলে কোনো ভাবনা করিতে হইবে না। এই 
অবস্থায় সাধারণ শক্তিশালী ব্যক্তির পক্ষে প্রাতঃন্নানহই বিশেষ উপকা'রী। 

(৯) মধ্যে মধ্যে হাল ছাড়িয়া দিয়া চলিলেই অনিচ্ছায় ত্বপ্নক্ষরণ 
বন্ধ হইবে, এই ধারণ! ভূল। 

(১০) এই সংযম এত কঠিন নহে যে, স্বামীন্ত্রীর পক্ষেও ইহ! পালন 
করা অসভ্ব। পক্ষান্তরে সংযমকে সাধারণ ও স্বাভাবিক মনে করা উচিত। 


(১১) প্রত্যহ মনেপ্রাণে প্রার্থনা করিলে লোকে ক্রমশঃ পবিত্র 
হইতে পারে। 


ইয়ং ইত্ডিয়া--১৩ই অক্টোবর, ১৯২০, মোহনদাস করম্াদ গান্ধী । 


১ 


ব্র্নীচধ্য 


এই বিষয়ে কিছু লেখ! সহজ নহে। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতার 
কথা পাঠকদিগকে জানাইব ভাবিয়াছি। আমার নিকট কতকগুলি 
চিঠি আসিয়! এই ইচ্ছা বাড়াইয়াছে। 

এক বাজি প্রশ্ন করিয়াছেন--“ক্রন্ষচর্ধয কিঃ ইহা যোল আনা 
পালন করা সম্ভব কি না? সম্ভব হইলে, আপনি ইহা পালন করেন 
কিনা?” 

্হ্ষচধ্যের পূর্ণ ও প্রকৃত অর্থ ত্রহ্ম-অন্বেষণ। ব্রহ্ম সকলের মধ্যে 
আছেন। ধ্যান এবং ধ্যানলন জ্ঞানের সাহায্য ব্রদ্ধকে খু জিতে হইবে। 
পূর্ণ ইন্দ্ি়সংঘম ব্যতীত এ জ্ঞানলাভ করা! অসম্ভব। অতএব সব সময় 
সব অবস্থায় কায়মনোবাক্যে সংযম পালন করাকে ব্রদ্ষচধ্য বলে। 

যে পুরুষ বা স্ত্রী এইরূপে পূর্ণ ত্রহ্মচ্ধ্য পালন করেন, তিনি সম্পূর্ণ- 
রূপে নিবিকার। এইরূপ নিবিকার ব্যক্তি ভগবানের নিকটে বাস 
করেন) তিনি ভগবান-সদৃশ। 

ইহাতে আমার একটুও সন্দেহ নাই যে, কায়মনোবাক্যে এইরূপ 
্রহ্মচর্ধ্য ষোল আনা পালন করা যাইতে পারে। দুঃখের সহিত 
জানাইতেছি, আমি এখনও পূর্ণবন্ষচারী হইতে পারি নাই। সেই 
অবস্থায় পৌছিতে অবিরত চেষ্টা করিতেছি; এবং এই শরীরেই 
সেখানে পৌছিবার আশ! ত্যাগ করি নাই। আমি শরীরকে বশে 

১৭ 


ব্রহ্মচধ্্য 
আনিয়াছি। জাগ্রত অবস্থায় আমি সংযম রক্ষা করিতে পারি। বাক- 
যম আমার একরূপ অভ্যাস্‌ হইয়াছে । চিন্তায় সংযম আমার এখনও 
আসে নাই। এক চিস্তা করার সময় অন্ত চিন্তাও আসিয়া! ' পড়ে। 
এজন্ চিস্তারাজ্যে অনবরত লড়াই চলে । 

অবশ্য জাগ্রত অবস্থায় চিন্তাকে নিয়ন্ত্রিত করিতে পারি ; এ সময় 
মনে কোনে। কুচিস্তা আসে না। কিন্তু ঘুমের সময় চিন্তাকে এত সংযত 
রাখিতে পারি না। নিব্রাকালে অনেক রকম চিন্তা আসে। যাহা 
কোনো দিন ভাবি নাই, সেবদপ স্বপ্র পর্য্যন্ত দেখি । এই শরীর দ্বারা 
যাহা ভোগ করিয়াছি, সেই সব বাসনার কথাও মনে পড়ে। এইসব 
বাসন অপবিন্র হইলে কু-দ্বপ্র দেখি । যার ইন্দ্রিয়বিকার হয়, .তার এ 
অবস্থা হইতে পারে। 

আমার এইবপ চিস্তা-বিকার কমিয়া আসিতেছে; কিন্ত একেবারে 
নষ্ট হয় নাই। যদি আমি চিন্তায় সংষমী হইতাম, তবে গত 
১০ বৎসরের মধ্যে জর, আমাশয় ও আপেগ্ডিসাইটিস ব্যারামে ভূগিতাম 
না। আমি মানি, নিষ্পাপ আত্মা নীরোগ শরীরে বাস করে--অর্থাৎ 
আত্ম যত নিষ্পাপ ও নির্বিকার হয়, শরীরও তত নিরোগ হয়। 
নিরোগ শরীরের অর্থ বলবান শরীর নয়। শক্তিশালী আত্মা ক্ষীণ 
শরীরেই বাস করে। আত্মার শক্তি যেমন বাড়িতে থাকে, নির্দিষ্ট 
সীমার পর শরীরের ক্ষীণতাও তেম্নি বাড়ে। সম্পূর্ণ নিরোগ দেহ 
বহুত ক্ষীণ হইতে পারে । বলবান শরীরে অনেক রোগ থাকিতে 
পারে। রোগ ন। হইলেও ছোঁয়াচে অথব! সংক্রামক ব্যাধি এইবরূপ 
শরীরকে সহজে আক্রমণ করে। কিন্তু সম্পূর্ণ নীরোগ শরীরে এ সব 
আক্রমণ হইতে পারে না। বিশুদ্ধ রক্ত এই সব সংক্রামক ব্যাধিকে 
প্রতিরোধ করে। 

৯৮ 


ব্রহ্মচর্ধ্য 
এরূপ অবস্থায় পৌছান অবশ্ট শক্ত, নহিলে আমি এতদ্দিন সেখানে 
পৌছিতাম) কারণ আমার অস্তরাত্মা সাক্ষ্য দিবে যে, ধে উপায়ে 


এই অবস্থায় পৌছান ধায়, আমি তাহ! অবলম্বন করিতে ক্রটী করি 
নাই। এমন কোনো বাহিরের বাধা নাই, ষাহাঁ আমাকে এ আদর্শ 


হইতে দূরে রাখিতে সমর্থ; কিন্তু পুরাতন সংস্কার মন হইতে মুছিয়] 
ফেলা সকলের পক্ষে সহজ নহে। এজন্য দেরী হইতেছে। কিন্তু 
ইহাতে আমি মোটেই নিরাশ হই নাই, কারণ পূর্ণ নির্বিকার অবস্থার 
চিত্র আমি কল্পনার চোখে দেখিতেছি। আমি তাহার অস্পষ্ট 
আলোকরশ্মি দেখিয়াছি এবং এ পধ্যস্ত যতটুকু অগ্রসর হইয়াছি,তাহাতে 
নিরাশ না হইয়া আশান্বিত হইয়াছি। আশাপুর্ণ হওয়ার পূর্বে যদি 
আমার এ দেহ নষ্ট হয়, তবে আমার চেষ্ট! বিফল হইয়াছে মনে করিব 
না। এই শরীরকে যতখানি বিশ্বাস করি, পুনর্জন্মে আমি ততখানি 
বিশ্বাস করি। আমিজানি স্বল্প প্রযত্রও ব্যর্থ হয় না। 

ধাহারা আমার নিকট চিঠি দিয়াছেন এবং ধাহার। এই প্রকৃতির 
লোক, তাহাদের ধধ্ধ্য ও আত্ম-বিশ্বান বাড়িবে বিশ্বাসে, আমি নিজের 
কথা এত করিয়া বলিলাম। সকলের আত্ম এক। সকলের আত্মার 
শক্তি একরূপ হইতে পারে। কাহারও শক্তির বিকাঁশ হইয়াছে এবং 
কাহারও হয় নাই। চেষ্টা.করিলে প্রত্যেকে এই শক্তির বিকাশ করিতে 
পারেন। 

এ পর্য্যস্ত ব্রহ্মচর্য্যের ব্যাপক অর্থ আলোচন। করিয়াছি । ত্রহ্গচধ্যের 
লৌকিক ব! প্রচলিত অর্থ কাঘ়মনোবাক্যে কামদমন। এই সীমাবদ্ধ 
অর্থ বেশ। কারণ এই ব্রন্ষচধ্য পালন করাও অনেক শক্ত । সমস্ত 
ইন্দ্রিয় বিশেষতঃ ব্রসনেন্দ্রিয় সংযমের কথা৷ লোকে বিশেষরূপে ভাবে 
নাই। রসনা বা আহার সংষমের দিকে লোকের লক্ষ্য যায় নাই 

১৭ 


ব্রহ্মচধ্য 

বলিয়া, কামদমন এত মুস্কিল ও প্রায় অসম্ভব হইয়াছে । তার উপর, 
চিকিৎসকগণ বলেন, রুগ্ন শরীরে বিষয়বাসনা অধিক থাকে এবং ছুর্ববল 
জাতির পক্ষে ব্রহ্মচর্ধ্য পালন কর৷ স্বভাঁবত কঠিন । 

আমি উপরে ক্ষীণ অথচ নীরোগ শরীর সম্বদ্ধে লিখিয়াছি। কেউ 
না ভাবেন আমি শারীরিক বলচচ্চা করিতে নিষেধ করিয়াছি । আমি 
হুক ব্রহ্মচয্যের কথা অতি সরল ভাষায় লিখিয়াছি। ইহা লোকে 
ভূল বুঝিতে পারে । যিনি পূর্ণ সংযম চান, শরীর ক্ষীণ হইলে, তাহাকে 
আনন্দিত হইতে হইবে। যখন শরীরের প্রতি মোহ ও আসক্তি নষ্ট 
হইবে, তখন শারীরিক বলের অধিকারী হওয়ার ইচ্ছাও থাকিবে 
না। অবশ্য খাটি ব্রহ্মচারীর শরীর অতি তেজ-পুর্ণ ও বলশালী ন! 
হইয়া পারে না। এইরূপ ক্রহ্ষচর্যও অলৌকিক। স্বপ্রাবস্থায়ও ধাহার 
ইঞ্জ্িয়বিকার হয় না, তিনি জগদ্ধরেণ্য। এরূপ ব্যক্তি সহজে অপর 
ইন্জিয় সংযম করিতে পারেন। 

এই ব্রহ্গচধ্য সঞ্ষদ্ধে এক ব্যক্তি জিখিয়াছেন_-“আমার অবস্থা 
শোচনীয়। আফিল আদালতে থাকার সময়, রাস্তা-ঘাটে চলার সময়, 
পড়ার সময়, কাজ করার সময়, উপাসনার সময়, দ্িনরান্তি সব সম্য় 
কামচিস্তা করি। কিরূপে মনকে সংযত করিব? কিক্ষপে নারীজাতির 
প্রতি মাতৃভাব পোষণ করিতে শিখিব? কিরূপে দৃষ্টি পবিত্রপ্রেমপূণ 
হইবে? কুচিস্তা কিরূপে নিম্মল হইবে? ব্রহ্গচধ্য-বিষয়ক আপনার 
পুরাতন লেখা আমার নিকট আছে, কিন্তু তাহা হইতে কোনো সাহায্য 
পাইতেছি না।, 

এ অবস্থা হৃদয্বব্দারক। অনেকে এবপে কষ্ট পান। পরস্ত 
ফৃতক্ষণ মন কুচিস্তার সহিত যুদ্ধ করিতে থাকে, ততক্ষণ নিরাশ হইবার 
কারণ নাই । খারাপ দৃশ্ দেখিলে চোখ বুজিতে হইবে, খারাঁপ কথ! 

সু 





%/ ত্রহ্মচর্্য 


গুনিলে তুলা দিয় কান বদ্ধ করিতে রর শ্বাঠ ৫ চাহিয়! 
পথচলার রীতি ভাল; ইহাতে চোখ বিপথে চলার অবসর পাইবে না। 
যেখানে কু-কথ অথবা কু-সঙ্গীত হয়, সেখান হইতে সরিয়৷ যাইবে । 
সকল প্রকার ইন্দ্রিয় সংযমের চেষ্টা একসাথে করা চাই । 

নিজের অভিজ্ঞত1 হইতে বলিতেছি, খিনি রসন! সংযত করেন নাই, 
তিনি কামদমন করিতে পারিবেন না । রসন। সংষত কর! খুব কঠিন। 
কিন্ত রসনা সংযমের সঙ্গে সঙ্গে কামদমনের সম্ভাবনা! আছে । পুরোপুরি 
অথবা ষথাসাধ্য মশল। ত্যাগ করা লোভদ্মনের এক উপাম্ন। দ্বিতীয় 
উপায়, যাহা কিছু আমরা খাই তাহ! জিহ্বার তৃপ্তির জন্য খাই না, 
শরীররক্ষার জন্য খাই-_-এই ভাবকে বুদ্ধি করা। অবশ্য ইহাও শক্ত। 
শ্বীসগ্রহণের জন্য আমর। হাওয়া খাই, স্বাদের জন্য নভে। পিপাস! 
নিবারণের জন্য জল পান করি। এইরূপে কেবল ক্ষুধাশাস্তির জন্য 
আমাদেব খাওয়ার দরকার। শিশ্তকাল হইতেই ম। বাপ আমাদিগকে 
উন্ট| শিক্ষা দেন। আমাদের শরীর পুষ্টির দিকে নজর না দিয়া, 
জিহ্বার তৃপ্তিকর নানাপ্রকার জিনিষ খাওয়াইয়। তাহারা আমার্দিগকে 
আলালেব ঘরের ছুল্লাল করিক্া] তোলেন! এপ অবস্থার সহিত 
আমাদিগকে লড়িতে হইবে । 

কামদমনের স্থবর্ণ-উপান্ব। “রামনাম” অথবা এইরূপ মন্ত্র পুনঃ পুনঃ 
উচ্চারণ কর1। দ্বাদশ মন্ত্রের ণ হইবে। প্রত্যেকেই নিজের মন 
অনুসারে মন্ত্র নির্বাচন করিয়। উহা জপ করিবেন। আমি বাঙ্যকাল 
হইতে রামনাম লইতে শিক্ষা পাইয়াছি; এই না করিয়া আমি সব 
সময় বল পাইয়াছি। এজন্য আমি রামনামের উল্লেখ করিয়াছি। 


যিনি যে মন্ত্রই গ্রহণ' করুন না কেন, জপিবার সময় তাহাতে তন্ময়, 2. 


1 ও বত হার 
সস & টেট ৮৫ টির 


টু : 426 22 21 





১৮ ৯০১229712 তত ১৩৪ 


২০ ; 2& 


ব্রহ্মচধ্য 


হওয়া চাই। প্রথম প্রথম জপকাঁলে অন্কথা মনে আসিলেও 
চিন্তা নাই। শ্রদ্ধার সহিত নাম জপিতে থাকিলে, পরে সফলতা 
নিশ্চয়ই আসিবে, ইহাতে আমার একরত্তিও সন্দেহ নাই। এই মন্কে 
জীবনের প্রধান অবলম্বনরূপে ধরিতে পারিলে, ইহাই সকল সম্কট 
হইতে রক্ষা করিতে পারে। আর্থিক লাভের জন্ত কেহ যেন এই মন্ত 
থাটাইতে নাযান। নৈতিক চরিত্র রক্ষার জন্ত প্রযুক্ত হইলে, ইহার 
ফল বিস্ময়কর হইবে । অবশ্য একথা মনে রাখা চাই যে, শুধু তোতার 
ন্যায় আওড়াইলে মঙ্ত্রেকোন ফল দিবে না--ইহার ভিতর মনোপ্রাণ 
ঢালিয়া দিতে হইবে । তোতাপাখী মন্ত্রের ন্যায় ইহ। পড়িয়া থাকে । 
এই মন্ত্র জপিলে কুচিন্তা নিকটে আসিতে পারিবে না, এই বিশ্বাস 
প্রবল রাখিয়। ইহ! জপিতে হইবে । 


হিন্দী-নবজীবন--২«শে মে, ১৯২৪-_মৌহনদাস করমটাদ গান্ধী । 


ছু 


আজ্ব-নংযম 


ভাদরণ নামক স্থানে এক মানপত্রের উত্তর দিবার সময় গান্ধীজী 
ব্রহ্মচধ্য সম্বন্ধে যে বক্তৃতা দেন, তার সার মশ্ম এখানে দেওয়া গেল £-» 
্র্ষচর্য্য এমন জিনিষ যাহ! বলিয়। বুঝান যায় না। আপনারা তে! 
মামুলি ব্রহ্মচর্ধ্য সম্বন্ধে শুনিতে চান। সমস্ত ইন্দ্রিয়সংযম রূপ ব্যাপক 
্রদ্মচধ্য সম্বন্ধে জানিতে চান না। এই সাধারণ ব্রদ্মচধাকেও শান্ত্রকারগণ 
খুব কঠিন বলিয়াছেন; এ কথা সত্য। আমর! অন্থান্য ইন্দ্রিয় সংযত 
রাখি না বলিয়া, ইহা পালন করা কঠিন ঠেকে। ইহার মধ্যে প্রধান 
হইল রসনেন্দট্রিয়। যেবাক্তি লোভ দমন করিতে পারে, তার পক্ষে 
্রহ্ষত্যাপালন সহজ | প্রাণীবিদগণ বলেন, পশুর! যতটা ব্রহ্মচ্য পালন 
করে,মানুষ ততটা করে না। ইহা সত্য । ইহার কারণ পশুগণ আপনাদের 
রসনাকে পুরোপুরি নিগ্রহ করে। ইচ্ছা করিয়া তাহার ইহ! করে না 
স্বভাবত ইহ! করে। পশুর! শ্বধু ঘাস খাইয়। জীবনধারণ করে, তাও 
পেট ভরার মত খায়। তাহার! বাচিয়া থাকার জন্য খায়, খাইবার জন্য 
বাচিয়। থাকে না। পরস্ত আমরা তো! ইহার উপ্ট। করি। মা সন্তানকে 
রকমারি সুস্বাদু জিনিষ খাওয়ান। তিনি মনে করেন ইহাই সন্তানের 
গ্রতি স্নেহ দেখানর সর্বোত্তম উপায়। ইহার ফলে এ সব জিনিষের 
স্বাদ বাঁড়ে না, কমে | স্বাদ তো থাকে ক্ষুধার ভিতর। ক্ষুধার সময় 
শুকনা রুটিও মিঠা লীগে? ক্ষুধা না থাকিলে মিঠা জিনিষও বিদ্বাদ ঠেকে। 
আমর! নানারকম জিনিষ ঠাসাঠাসি করিয়া খাইয়া পেট বোঝাই করি, 
২৩ 


ব্রহ্মচধ্য 


আর বলি, ব্রদ্ষচর্ধয পালন করা যাইতেছে না। দেখিবার জন্ত ষে 
চোঁখ ভগবান আমাদিগকে দিয়াছেন, আমর! তাহা কলুযিত করি এবং 
যেসব জিনিষ দশনযোগ্য তাহা দেখা শিক্ষা করি না। “মায়ের €কন 
গায়ত্রী না পড়া ঠিক এবং তিনি কেন সন্তানকে গায়ত্রী শিখাইবেন না ?' 
ইহা লইয়! তর্ক বিতর্ক না করিয়! গায়ত্রীতত্ব স্র্ধোপাসন। কি, তাহা 
বুঝাইয়। সয্যের উপাসন1 করানই ভাল । সনাতনী আধ্যসমাজী সকলেই 
তো সয্যের উপাসনা করিতে পারে । আমি তো আপনাদ্দের সামনে 
সু অর্থ উপস্থিত করিয়াছি । এই উপালনার অর্থ কি? আপনার শির 
উচু করিয়া স্ধ্যরূপ নারায়ণকে দর্শন করিয়া চক্ষু শুদ্ধ করাই এই গায়ত্রীর 
উদ্দেশ্তা। গায়ত্রী রচয়িতা খধি ছিলেন, দ্রষ্টা ছিলেন। তিনি কহিয়া- 
ছেন কুর্যোদয়ে যে নাটক যে সৌন্দধ্য থে লীলার অভিনয় হয়, তাহ! 
আর কোথাও হয় না। ভগবানের ন্যায় চিত্রশিল্পী এবং আকাশের 
অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ রঙ্গভূমি কোথাও নাই। কিন্তু কোন্‌ মা সন্তানের 
চোখ ধোয়াইয়া তাহাকে আকাশ দর্শন করাইয়া থাকেন? ইহা ভিন্ন 
মায়ের ভালবাসার ভিতব তো মোহ আছে। ঘরে যে শিক্ষা 
পাওয়া যায়, শিশুরা তাহাই শিক্ষা করিবে। কিন্তু কয়জনে একথ! 
ভাবে, জানা অজানা যত কথা বালক শোনে, তাঁর মধ্য হইতে সে 
কতকগুলি কথা শিখিবে। মাঁবাপ আমাদের শরীরকে নানা রকম 
পোষাক দিয়া সাজান। কিন্ত ইহাতে শোভ। বাড়ে কই? শীতাতপ 
হইতে শরীরকে রক্ষা করিবার জন্য আমরা কাপড় ব্যবহার করি, 
সৌন্দধ্য বাড়াইবার জন্য নহে। বালককে যখন আমর! 
অগ্রিকুণ্ডের পাশে বসাইফ়া দিব, অথবা খেলাধূলায় যোগ দিতে 
পাঁঠাইব, কিঘা' ক্ষেতের কাজে লাগাইয়। দিব, তখন তার শরীর 
বজেরন্তায় হইবে। যিনি ব্রহ্ষচর্ধ্য পালন করেন, তার শরীর অবশ্ত 
২৪ 


আত্ম-সংযম 

বজ্র হ্যায় দৃঢ় হয়। আমরা তো ছেলে-পিলের শরীর নষ্ট করিয়! 
ফেলিতেছি। আমরা তাহাদ্দিগকে ঘরে বসাইয়৷ রাখিয়। ননীর পুতুল 
বানাইতেছি। অতিমাত্রায় আদর দিয় সন্তানের শরার বিগড়াইয়া 
দিতেছি । 

ইহা তো হইল কাপড়ের কথা । বাড়ীতে নানারকম কথা 
বলিয়। তাহাদের মন খারাপ কারয়া দিতেছি । আমর। তাহার্দিগকে 
বিবাহের কথ। বলি, এবং এইরূপ ব্যাপার ও দৃশ্য তাহারা দেখে। 
আমি তো আশ্চধ্য হ্ইয়। যাই যে, আমরা কেন আরও বর্বর হইয়া 
যাই নাই! নীতির বন্ধন নষ্ট করার চেষ্টা সত্ত্ব ইহা রক্ষা পায়। 
ভগবান মানুষকে এমনভাবে স্ষ্টি করিগ্াছেন যে, ধ্বংসের অনেক 
কারণ ঘটিলেও, সে বাঁচিয়া যায়। তার লীল। রহস্যময় । এইসব বাধ। 
ঘর্দ আমর] দূর করিতীম, তবে ব্রহ্মচষ্য পালন করা খুব সহজ হইত। 

আমাদের অবস্থা এনধপ হওয়া? সত্বে আমরা দুনিয়ার সহিত 
শারীরিক বল-্পরীক্ষায় নামিতে চাই। ই্ভার ছুটি পথ আছে-_ 
একটি আস্বরিক অপরটি টৈবী। শারীরিক শক্তিবৃদ্ধির জন্য গোমাংস 
গ্রতৃন্তি নানাবপ খাদ্য গ্রহণ করা, কুস্তি প্রভৃতি করা আস্থরিক পথ। 
বাল্যকালে আমার এক মিত্র আমাকে বলিয়াছিলেন, আমাদিগকে 
অবশ্য মাংসাহার করিতে হইবে, নহিলে ইংরেজের মত হষ্টপুষ্ট 
হইতে পারিব না। ভিন্ন দেশের সহিত যুদ্ধ আরম্ভ হইলে, জাপানেও 
গোমাংস খাওয়া আরস্ত হইয়াছিল। যদ্দি আস্থরিক উপায়ে শরীর 
তৈরী করিবার ইচ্ছ। হয়, তবে এইসব জিনিষ খাইতে হইবে । 

পরস্ত যদি দৈবী সাধনার পথে শরীর তৈরী করিতে চাই, তবে 
ব্রহ্মচরধ্যই তাঁর উপায়। যখন আমাকে কেহ নৈষ্ঠিক ব্রদ্ষচারী 
বলে, তখন নিজের উপর আমার কৃপা হয়। মান-পত্রে আমাকে 

ক 


৪ 


ব্রহ্মচত্য 


নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচারী বলা হইয়াছে । একথা বল! দরকার, যিনি মান- 
পত্রের মুসাবিধা করিয়াছেন তিনি জানেন না, নৈঠিক ব্রদ্ধচর্য 
কাহাকে বলে। যাহার সন্তান হইয়াছে, তাহাকে ' কিরপে ,নৈষ্টিক 
ব্রহ্মচারী কহ যায়? নঠিক ব্রক্ষচারীর তে! কখনও জর হয় না, মাথা 
ধরে না, আমাশয় ও এপেগ্ডিসাইটিস্‌ হয় না। ভাক্তারগণ বলেন, 
কমলালেবুর রস অন্ত্রের মধ্যে থাকিয়া গেলেও এপেগ্ডিসাইটিস্‌ হইতে 
পারে। যার শরীর নীরোগ, তার শরীরে এই জিনিষ থাকিতে পারে 
না। অন্তর শিধিল হইলে, এইসব দ্িনিষ আপনা হইতে বাহির হয় ন1। 
অস্ত্র শিথিল হইয়াঁছল বলিয়া আমার এপেপ্তিসাইটিন্‌ হ্ইয়াছিল। 
যাহা সহজে হজম হয় না)ছেলেপিলে এমন জিনিষ অনেক খায় । ম। ভার 
খোজ রাখে কই? তবে তাহাদের অন্ত্রের ত্বাভাবিক শক্তি অনেক বেশী । 
আমি চাই আমাকে নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচারী বলিয়া যেন কেহ মিথ্যাচারী না 
হন। নৈষ্টিক ব্রহ্মচারীর তেজ তো৷ আমার অপেক্ষা অনেক গুণ বেশী 
হইবে। আমি আদর্শ ব্রহ্মচারী নহি। এ কথা সত্য যে, আমি এইরূপ 
হইতে চেষ্টা করিতেছি । ব্রদ্মচ্ধ্য সম্বন্ধে বলিতে গিয়া আমি তো 
আপনাদের সামনে আমার নিজের অভিজ্ঞত। কিছু পেশ করিলাম। 
হক্ষচারী হওয়ার অর্থ ইহা! নহে যে, কোনো। স্ত্রীলোক অথবা আপনার 
ভগ্রীকে স্পর্শ করিব না। কাগজ স্পর্শ করিলে যেমন মনে কোনে! 
বিকার উৎপন্ন হয় না। স্ত্রীলোক স্পর্শ করিলে ব্রক্ষচাঁরীর তেমনি 
কোনে! বিকার হইবে না। ভগ্নীর ব্যারামে, তার সেব। করিতে গিয়। 
যদ ব্রহ্মচধ্য নষ্ট হয়, তবে এই ব্রহ্মচধেঠর মূল্য তিন কড়া কড়ি। কোনো 
মৃত শরীর স্পর্শ করিয়! যেরূপ নির্বিকার থাকিতে পারি, কোনে। পরম! 
সুন্দরী যুবতীর শরীর ম্প্শ করিয়! সেইরূপ নির্বিকার থাকিতে পারিলে 
আমর! ব্রহ্মচারী । 
২৬ 


আত্ম-সংযম 
ব্রন্মগারী শ্বভাবত সন্ন্যাসী | ক্রহ্মচর্য্যাশ্রম সন্ন্যাসাশ্রম অপেক্ষা 
শ্রেষ্ট । পরস্ আমর! ইহার মধ্যাদা নষ্ট করিয়াছি। ফলে আমাদের 
গৃহস্থ বাণপ্রস্থাশ্রম নষ্ট হইয়াছে এবং সন্গ্যাসাশ্রমের নাম পধ্যন্ত লোপ 
পাইয়াছে। আমাদের অবস্থা এত শোচনীয়। 
উপরে যে আস্থরিক পথের কথা বলিম়্াছি, সে পথে চলিতে গেলে 
আপনারা পাঁচ শ বছর তক পাঠানদের * সহিত লড়াই করিতে সক্ষম 
হইবেন না। দৈবী পথে চলিলে, আজই তাহাদের সহিত লড়াই 
করিতে পারিবেন। কারণ ঠবী সাধন দ্বার! এক মুহূর্তের মধ্যেও 
প্রয়োজনীয় মানসিক পরিবর্তন হইতে পারে । কিন্তু শারীরিক পরি- 
বর্তন সাধন করিতে হইলে অনেক সময় দরকার । যখন আমাদের 
ভিতর পূর্ব-জন্মার্জিত পুণ্য থাকিবে, এবং পিতামাতারা আমাদিগকে 
উপযুক্ত শিক্ষ। দিবেন, তখন আমরা ঠদবীপথে চলিতে পারিব। 
হিন্দী-নবজীবন--২৬ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৫-_মোহনদাস করম্ঠাদ গান্ধী 


* মহীত্বীজী বৌধহয এখানে ভারতের ৰাহিরের পাঠানদের সহিত হিন্দু-সুদলমান 
নকলের বিরোধের কথ! ইঙ্গিত করিতেছেন--অনুবাদক । 


০৯১৭ 


সত্য বনাম ত্রঙ্গচর্য্য | 


কোনে বন্ধু মহাদেও দেশাঈকে লিখিয়াছেন £_ 

«আপনার শ্মরণ হইতে পারে, কয়েক মাস পূর্বেবে নবজীবনের 
একটি প্রবন্ধে গান্ধীজী লিখিয়াছিলেন, তিনি তখনও দুঃক্প্র দেখেন। 
ইহা পড়িয়া আমার মনে হইয়াছিল, এরূপ কথা প্রকাশ করার 
ফল কখনও ভাল হইতে পারে না। যে আশঙ্ক। করিয়াছিলাম, 
তাহ[ই সত্য বলিয়া! প্রমাণিত হ্ইয়াছে। 

“বিলাত-গ্রবাস কালে আমার ছুই বন্ধু ও আমি, অনেক 
প্রকার প্রলোভন সত্ব, চরিত্র নিষ্ষলঙ্ক রাঁখিয়াছিলাম। মদ মাংস ও 
স্ত্রীলোক হইতে আমরা সম্পূর্ণরূপে দূরে ছিলাম। কিন্তু গান্ধীজীর 
এ প্রবন্ধ পড়িয়া, আমার এক বন্ধু সম্পূর্ণরূপে হতাশ হইয়া বলিম়াছিলেন, 
“বিপুল চেষ্টার পর গান্ধীজীর অবস্থা যদি এমন হয়, তবে আমর 
কি করিতে পারি? ব্রঙ্গচধ্যপালন করার চেষ্টা করা বৃথা । 
গান্ধীজীর ভ্রুটী স্বীকার আমার সমস্ত ধারণা বদলাইয়া দিয়াছে। 
আজ হইতে আমি গোলায় গেলাম ধরিয়া লইও।” আমার মুখ 
মলিন হইল। সঙ্কোচের সহিত তাহাকে বলিলাম, "গান্ধাঙ্জীর 
পক্ষেও এই পথে চল! যদি শক্ত হয়, তবে আমাদের পক্ষে আরও 
শক্ত। এজন্য আমরা দ্বিগুণ উৎসাহের সহিত ব্রন্ষচধ্য পালন 
করিতে চেষ্টা করিব । আপনি এবং গান্ধীজীও বোধ হয় এইরূপ 
যুক্তি দ্রেখাইতেন। কিন্তু এসবই বৃথা হইল। এ পধ্যন্ত ষে চরিত্র 
সুন্দর ও ন্ফিলগ্ক ছিল তাহা কলঙ্কিত হইল। যদ্দি কেহ গাদ্ধীজীকে 

৮ 


সত্য বনাম ব্রহ্মা 


এজন্স দায়ী করে, তবে গান্ধীজী অথবা আপনি ইহার কি জবাৰ 
দিবেন? 

“যত দিন পর্যন্ত আমি এই একটি ঘটন। জানিতাম, ততদিন 
পর্যন্ত আপনাকে কিছু লিখি নাই। তখন লিখিলে, আপনি হয়ত 
বলিতেন, একটি ঘটন! দেখিয়া কোনে। সিদ্ধান্তে পৌছান যায় না। 
কিন্তু এ লেখা বাহির হওয়ার পর, এইরূপ আরও ঘটনা দেখিয়া, 
আমার ধারণা যেঠিক, তাহাই মনে হইতেছে। 

“জানি, গান্ধীজীর পক্ষে অনেক কাজ খুব সহজ হইলেও, 
আমার পক্ষে সে-সব অনসম্ভব। কিন্তু তগবানের কৃপায় ইহাও সম্ভব 
হইতে পারে, যে-কাজ গান্ধীজ্বী করিতে অক্ষম, সেইরূপ এক আধট! 
কাজ আমি করিতে পারি। গাদ্ধীজীর পক্ষে যাহ অসাধা, তাহা 
আমার পক্ষে সাধ্য হইতে পারে, এই অভিমান আমাকে অধ:পতন 
হইতে রক্ষা করিয়াছে । অবশ্য গান্ধীজীর স্বীকারোক্তি পড়িয়! 
আমার অন্তর বিলোড়িত হইয়াছে এবং ভবিষ্যতে নিরাপদে 
থাকিতে পারিব কিন। তাহাতে সন্দেহ হইতেছে । 

“পা করিয়। একথা এখন গান্ধীজীকে বলিবেন। বিশেষতঃ 
এ সময় তিনি তাহার আত্মজীবনী লিখিতেছেন। খাঁটি সত্য বলায় 
বাহাছুবী আছে, কিন্তু “নবজীবন+ ও “ইয়ংইপ্ডিয়ার” পাঠকগণ এবং মানব 
জাতির পক্ষে ইহার ফল খারাপ হইবে। যাহা একের খাদ্য তাহ! 
অন্যের পক্ষে বিষের ন্যায় ভয়ঙ্কর হইতে পারে।” 

এই অভিযোগ নৃতন নহে । অসহযোগ আন্দোলন জোরে 
চলিবার সময় যখন আমি আমার ক্রটি শ্বীকার করিয়াছিলাম, 
তখন কোনো বন্ধু সবলভাবে লিখিয়াছিলেন, “আপনার তুল হইলেও» 
তাহা স্বীকার করা উচিত হয় নাই। লোকের এ বিশ্বাস জন্নান 

সী 


ব্রহ্মচর্ধ্য 


উচিত যে, অন্ততঃপক্ষে এমন একটি লোক আছেন, যিনি কখনও 
ভুল করেন না। লোকে আপনাকে সেইরূপ ভাবিত। আপনার 
ক্রুটি ক্বীকারের জন্য তাহারা হতাশ হইবে ।, এই পত্র পড়িয়া 
আমার হাসি কান্না ছুইই আসিয়াছিল। লেখকের সরলতা দেখিয়া 
আমার হাসি পাইয়াছিল। নিখুঁত লোক না মিলিলে, যাহার গলদ 
আছে এরূপ লোককে নিখুত বলিয়া চালাইতে হইবে এক্ূপ চিন্তায় 
আমাকে ছুঃখ দিয়াছিল। 

আমার ক্রটী থাকিলে এবং তাহ। লোকে জানিলে, তাহাদের 
ক্ষতির বদলে লাভ হইবে । আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে, তাড়াতাড়ি 
ক্রটী শ্বীকার করায় জনসাধারণের লাভ হ্ইয়াছে। নিজের সম্বন্ধে 
বলিতে গেলে বলিব, ইহাতে আমার যথেষ্ট লাভ হইয়াছে | 

আমার কুম্বপ্র সন্বদ্ধেও এই কথা খাটে । পণ ব্রদ্ষচারী ন1 হইয়াও, 
যদি আমি ইহ! দাবী করিতাম, তবে ইহাতে সংসারের বড় ক্ষতি 
হইত। ইহাতে ব্রহ্ষচধ্য কলঙ্কিত হইত এবং সতোর জ্যোতি ক্লান 
হইত । ব্রহ্মচারী হওয়ার মিথ্য। দাবী করিয়া আমি কেন ব্রহ্ষচধ্যের 
মূল্য কমাইব? এখন আমি স্পষ্টই দেখিতেছি, ব্রন্ধচর্ধ্য পালনের জন্তু 
আমি ষে উপায় অবলম্বনের কথা বলিতেছি, তাহা সম্পূর্ণ নহে এবং 
সব ক্ষেত্রে ইহা সম্পূর্ণরূপে সফল হইবে না, কারণ আমি স্বয়ং পূর্ণ 
্রদ্ধচারী নহি। ছুনিয়! যদি আমাকে পূর্ণ ব্রদ্ষচারী ভাবে এবং আমি 
যদ্দি ব্রহ্ষচর্ধ্য পালনের শ্রেষ্ঠ উপাম্ম দেখাইতে না পারি, তবে মহা 
অন্তায় হইবে। 

আমি সদাজাগ্রত সাচ্চ। সাধক, ত্রহ্মচর্ষয লাভের জন্য নিরস্তর দৃঢ়- 
ভাবে কঠোর চেষ্টা করিতেছি। এইটুকু জানিলেই বা সকলে উৎ- 
সাহিত হইবে না কেন? মিথ্যা যুক্তি হইতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌছা 


সত্য বনাম ব্রহ্মচধ্য 


ঠিক নছে। যাহা কেহ করিয়াছে, তাহা দেখিয়া] জ্ঞানীর সিদ্ধান্তে 
উপনীত হন। কেন এক্সপ বল! হয় যে, আমার মতন লোক কুচিস্তা 
হইতে যদি মুক্ত ন! হইতে পারে, তবে অপরে কি করিঘা পারিবে ? 
এই গলদপূর্ণ তর্ক না করিয়া, ইহাই বলেন না! কেন ষে-গান্ধী এক- 
কালে রিপুর দাস ও ব্যভিচারী ছিল সেই গান্ধী যখন বর্তমানে আপ- 
নার পত্বীর সহিত বন্ধু এবং তাইএর ন্তায় বাস করিতে পারে, 
এবং অনিন্দান্ুন্দরী যুবতী নারীকে কন্ত! অথবা ভগ্রী মনে করিয়। 
তাহার সহিত একসঙ্গে থাকিতে পারে, তখন আমরাও কেন ইহা 
পারিব না? হীন মহাপাতকীরও উদ্ধারের আশ। আছে । আমার 
কুচিস্তা ভগবান দূর করিবেন, ইহাই হইল সোজা হিসাব । 

লেখকের যে-ামত্রেরা আমার গলদের কথা শুনিয়া পিছনে ইটিয়া- 
ছেন ভাবিতেছেন, তাহারা কখনও অগ্রসর হন নাই। তাহাদের 
ভ্রান্ত ধারণ। সামান্ত আঘাতেই নট হইয়াছে । সাচ্চা ব্রহ্মচর্্যসাধন 
এবং এইরূপ মহান্‌ ব্রতপালন আমার ন্যায় অসম্পূর্ণ ব্যক্তির 
উপর নির্ভর করে না। তাহার পিছনে অনংখ্য লোকের কঠোর 
তপশ্চর্য)1 এবং আদর্শ নৈষ্টিক ব্রহ্মচারীর সাধন। রহিয়াছে । 

এই সব আদর্শ মানবের পংক্তিতে ঈাড়াইবার অধিকার যখন 
আমার হইবে, তখন আমার" ভাষার দৃঢ়ত1 ও শক্তি আরও বাড়িবে। 
যিনি কখনেো। কোনো খারাপ চিন্তা করেন না, যার চিন্তা সংযত, ধিনি 
স্বপ্ন দেখেন না, যিনি পিদ্রাবস্থায়ও জাগ্রত থাকিতে পারেন, তিনিই 
প্রকৃত স্বাস্থাবান। তাহার কুইনিন সেবন করা দরকার হম় না। 
নিবিকারীর রক্ত এরপ শুদ্ধ ষে, তাহার শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু 
প্রবেশ করিতে পারে না। এইরূপ সম্পূর্ণ সুস্থ শরীর মন ও আত্মা- 
লাভের জন্য আমি চেষ্টা করিতেছি। ইহার ভিতর পরাজয় ব! 


৩১ 


ব্রহ্মচর্ধ্য 
বিফলতার কোনো কথ! নাই। এই চেষ্টায় যোগ দ্িবার জন্য,আমি পত্র- 
লেখককে, তাহার বন্ধুদিগকে এবং অপরকেও অনুরোধ কাঁরতেছি 
এবং আমি ইচ্ছা করি লেখকের স্তায় তাহারাও দ্রুত উন্নতির পথে 
অগ্রসর হউন । যাহারা পিছনে পড়িয়া আছেন, তাহারা আমার 
ষ্টান্তে যেন আত্মবিশ্বানী হন। আমার দুর্বলতা এবং ইন্দ্রিয়ের অধীন 
হওয়া সত্বে, নিরস্তর চেষ্টা এবং ভগবানের করুণায় অনন্ত বিশ্বাসের 
ফলে, আমি সামান্য সফলতা! প্রাপ্ত হইয়াছি। 

এজন্য কেহ যেন নিরাশ না হন। আমার “মহাত্ম।” হওয়ার 
কোনো অর্থ নাই। আমার বাহিরের কাজের জন্ত--রাজনৈতিক 
কাজের জন্য, আমি ইহা পাইয়াছি। ইহা! ক্ষণস্থায়ী । সত্য, অহিংস! 
এবং ব্রহ্মচর্যের গুতি নিষ্ঠা আমার অন্তরতম জিনিষ__ইহাই আমার 
অবিচ্ছিন্ন জিনিষ । ইহা অন্প হইলেও অনাদরের জিনিষ নহে। এ 
সম্থষ্ধে আমি ভগবানদত যাহা-কিছু পাইয়াছি, ভুল করিয়াও তাহার 
প্রতি যেন কেহ অবজ্ঞা ন। দেখান--কারণ এ অল্পই আমার যথা সর্ববস্থ | 
এই সম্পর্কে আমার অকৃতকাধ্যত| ও ভ্রমপ্রমাদকেও অমি সফলতার 
চাবি মনে করি; ইহার জন্য নিস্কলতাও আমার প্রিয় । 

হিন্দী-নবজীবন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ১৯২৬--মোহনদাস করমচাদ গান্ধী । 


৩ 


পবিত্রতা 


রহ্মচ্ধ্য এবং ইহা গ্রাপ্তির উপায় জানিবাৰ জন্য আমার নিকট 
অসংখ্য চিঠি আমিতেছে। পূর্ধে আমি যাহা বলিয়াছি অথবা! 
লিখিয়াছি, নূতন তাবে তাহার পুনরালোচনা করিব। কলের 
্যায় শরীর সংযম করাকে 'বরঙ্ষচধা বলে না। ইহার অর্থ সমস্ত 
ইন্জিয়ের পূর্ণংঘম-কায়মনোবাক্যে ইন্দ্রিযবিকার হইতে মৃক্তি। 
এই হিসাবে ইহা! আত্ম-দর্শন বা ভগবদপ্রাপ্তির পাকা সড়ক। 
ইন্ড্িয় পরিতৃপ্তি অথবা সন্তানোৎ্পাদনের ইচ্ছার সহিত ক্রহ্ধ- 
চারীকে আদৌ লড়িতে হয় না) ইহ! তাহাকে মোটেই 
জালাতন করে না। সারা! ছুনিয়। তার নিকট এক বিশাল 
পরিবারের স্তায় ঠেকে । মানবের ছুঃখছুর্িশা দুর করিবার জন্ত 
তিনি তাহার সব উচ্চাশাকে কেন্দ্রীভূত করেন। সম্তানোৎপাদন 
ইচ্ছা তাহার নিকট বিষবৎ মনে হয়। যিনি মানবসমাজের 
বিশালত। পূর্ণরূপে উপলব্ধি করিয়াছেন, তিনি কখনও ইন্্িয়ের দাস 
হন না। তিনি সহজাত সংস্কাররূপে আপনার শক্তির উৎস কোথায় 
তা জানেন এবং ইহাকে নিষ্কনস্ক রাখার জন্য সব স্ময় চেষ্টিত 
থাকেন। জগৎ তীহার ক্ষুদ্র শক্তিকে সন্মান করে। দগুধারী রাজা 
অপেক্ষা ঠাহার গ্রভাব বেশী। 

কিন্ত আমাকে বলিতে পারেন, এই আদর্শে পৌছান অসম্ভব এবং 


৩৩ 


ব্রহ্মচর্্য 
্ত্রী-পুরুষের ভিতরকার শ্বাভাবিক আকর্ষণকে আমি হিসাবে ধরি নাই। 
আমি ইহা বিশ্বাস করি না যে, স্ত্রী-পুরুষের ভিতরকার এই আকর্ষণ 
স্বাভাবিক; ইহ1 সত্য হইলে বুঝিব প্রলয়ের বেশী দেরী।নাই। 
ভাই-বোন, মাতা-পুত্র ও পিতা-পুত্রীর ভিতর যে আকর্ষণ আছে, তাহাই 
শ্বাভাবিক। এই স্বাভাবিক আকর্ষণই ছুনিয়াকে রক্ষা করিতেছে। 
সমস্ত নারীজাতিকে আমি যদ্দি ভগ্রী, কন্তা অথব! মায়ের ন্যায় ভাবিতে 
না পারিতাম, তবে কাজ করাতো। দূরের কথা, বাচিয়া! থাকাই আমার 
পক্ষে অসম্ভব হইত। যদ্দি কামদৃষ্টিতে তাহাদের দিকে তাকাইতাম 
তবে ইহা স্থনিশ্চিতরূপে আমাকে সর্বনাশের পথে জইয়। 
যাইত। 

সন্তানোৎ্পাদন ত্বাভাবিক ব্যাপার; কিন্তু ইহার একট! সীম 
আছে। এই সীম! লঙ্ঘন করিলে নারীকে বিপন্ন ও সমাজকে শক্তি- 
হীন করা হয়। ইহা ব্যাধি স্থষ্টি করে, পাপকে চিত্বাকর্ক করে এবং 
ছুনিয়াকে অধশ্মের পথে লহয়া যায়। ইন্দ্রিয়পরায়ণ বাক্তির অবস্থ! 
হালশুন্ত জাহাজের ন্যায়। এইব্ূপ কোনো লোক যদ্দি সমাজকে 
চালাইতে যায়, গাদাগাদ। বই লেখে, এবং লেকে যাঁদ তাহার কথ 
মত চলে, তবে সমাজের অবস্থা শোচনীয় হইবে। তথাপি ঠিক এই 
সব ব্যাপার ঘটিতেছে। ক্ষণস্থায়ী আনন্দের চিন্তায় তন্মম্ন হইয়া 
আলোকের চারিপাশে ঘুরিতে ঘুরিতে পোকার যে অবস্থা হয়, ক্ষণিক 
স্থখের আশাম ইন্দ্িয়পরিতৃপ্তির পথে চলিতে চলিতে আমাদেরও মেই 
দশা হইবে । আমি উচ্চকঠে ঘোষণ। করিব, স্বামী-স্ত্রীর ভিতরকার 
যৌন আকাজ্চাও অস্বাভাবিক । মনকে ইন্দ্রিয়ের দাসত্ব হইতে 
মুক্ত করা এবং দম্পতিকে ভগবানের নিকট লইয়া যাওয়াই 
বিবাহের ডদ্দেশ্ত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পবিত্র কামগন্ধহীন প্রেম 


৩৪ 


পবিত্রতা 


থাক! অসম্ভব নহে। মানুষ পণ্ড নহে। অসংখ্য পশুযোনি ভ্রমণ 
করার পর, সে উচ্চত্তরে উঠিয়াছে। তাহাকে চারি পায়ে ভর 
দিয়া অথবা হামাগুড়ি দিয়া চলিতে হয় না, সে ধাড়াইবার জন্তু 
স্যষ্ট হইয়াছে । জড়পনার্থ ও আধ্যাত্মিকতায় যে প্রভে্দ, পশুত্ব ও 
মগষ্যত্থে সেই গ্রভেদ । 

পরিশেষে ব্রক্ষচর্ধয লাভের উপায় সন্বদ্ধে আমি সংক্ষেপে কিছু 
বলিব। 

ইহার প্রয়োজনীয়ত! উপলব্ধি করাই প্রথম সোপান। 

তারপর ধীরে ধীরে সমস্ত ইন্দ্রিয় সংযত করিতে হইবে। ত্রক্মচারীকে 
রসনেক্্রিয় সংযম করিতে হইবে । তিনি বাচিয়া থাকার জন্ত 
খাইবেন, ভোগের জন্য নহে । তিনি শুধু পবিত্র জিনিষ দেখিবেন, 
এবং অপবিত্র কিছু দেখিলে চোখ বুজিবেন। এদিক ওদিক ন! 
তাকাইয়। মাটির দ্বিকে চাহিয়া পথ চলাই স্থুশিক্ষার চিহ্ন; তিনি 
কোনো কু অথব! অপবিত্র কথা শুনিবেন না; কোনো উগ্র ব৷ উত্তেজক 
জিনিষের গন্ধ লইবেন না। পরিষ্কার মাটার গন্ধ, কৃত্রিম স্থগদ্ধিত্বব্য 
অথব। গন্ধসার অপেক্ষা অনেক মধুর। যিনি ব্রহ্মচারী হইতে ইচ্ছুক, 
তিনি যেন সব সময় নিজের শরীরকে স্বাস্থ্যপ্রদ কাজে নিযুক্ত রাখেন, 
এবং মধ্ো মধ্যে উপবাসও'করেন। 

তৃতীয় উপাম্ব সৎসঙ্গী ও সৎবন্ধুর সহিত থাক এবং সংগ্রস্থ 
পাঠ। 

শেষ উপায় উপাসন| । ইহার মুল্য কোনোটির অপেক্ষা কম নহে। 
ব্রদ্ষচারী যেন সর্বাস্তকরণে প্রত্যেকদিন নিয়মিত রূপে ভগবানের 
নাম করেন ও তার করুণ। ভিক্ষা) করেন। 

স্রী-পুকুষ কাহারও পক্ষে ইহার কোনোটা পালন কর! শক্ত নহে। 


৩৫ 


্রহ্ষচর্ধ্য 

এগুলি সহজসাধ্য। কিন্তু সহজ বলিয়াই মুস্বিলে পড়িতে হয়। 
সস্কল্প থাকিলে, উপায় সহজে বাহির হয়। লোকে ইহা! চায় না, সে 
জন্য অন্ধকারে বৃথা হাভড়াইয়া বেড়ায়। অল্পবিস্তর '্রদ্ষচর্ধ্য 
বা সংযমরক্ষার উপর যখন জগতের অস্তিত্ব নির্ভর করে, তখন বলা 
চলে ইহা প্রয়োজনীয় এবং পালন করাও সম্ভবপর 


ইয়ং ইতিয়া--২৯ এপ্রিল, ১৯২৬ মোহনদাস করমচাদ গান্ধী । 


জীবনী-শক্তি সঞ্চয় 


এইব্ূপ বিষ গ্রকাশ্ঠভাবে আলোচন1 করিতেছি বলিয়! পাঠকগণ 
যেন আমাকে ক্ষমা করেন। গোপনে ইহা আলোচনা করিতে পারিলে 
স্বধী হইতাম। কিন্তু বাধ্য হইয়া আমি যেসাহিত্য পাঠ করিয়াছি 
এবং শ্রীযুক্ত বুরো * সাহেবের পুস্তক সমালোচনার পর আমি যে-সৰ 
চিঠি পাইয়াছি, তাহাতে সমাজের এই পরম হিতকর প্রশ্ন গ্রকাশ্যভাবে 
আলোচন। কর] দরকার ভইয়া পড়িয়াছে। এক মালাবারী ভাই 
লিখিতেছেন £ 

প্্রীযুক্ত বুরোর বই সমালোচনার সময় আপনি লিখিয়াছেন, 
্রক্ষচর্ধয ব] দীর্ঘকাল সংষম পালন করার ফলে কাহারও কোনে ক্ষতি 
হইয়াছে এবূপ একটি দৃষ্টান্ত নাই । ভিন সপ্তাহের বেশী সংযম পালন কর! 
আমার পক্ষে অনিষ্টকর মনে হয়। তিন ২প্টাহ পরে আমার শরীর 
প্রায়ই ভার ঠেকে, মন ও শরীর চঞ্চল হয় এবং মেজাজও একটু 
বিগড়াইয়া যায়। সম্ভোগ দ্বারা অথবা! অনিচ্ছা প্রস্থত বীর্যপাত 
হইলে আরাম পাই। পরদিন প্রাতে শরীর ও মন ছুর্ববল না হইয়া 
শান্ত ও হালকা হয় এবং বেশী উৎসাহের সহিত আমার দিয়মিত কাজ 
করিতে পারি ' 

“সংযমই আমার এক বন্ধুর যথেষ্ট অনিষ্ট করিয়াছে। তাহার 


সপ 





শাসন পি স্পা ীাপিাস্পিশী শী 


* 21. 780] [01680 নীমক ফরাসি লেখকের একখানা বইএর ইংরেজী অনুবাদের 
( [08105 11019] 8৪1)া0101$ ) সমালোচনা গান্ষীজী ইয়ং ইগ্ডিয়ীয় করেশ-- 
অনুবাদক । 


৩৭ 


ব্রহ্মচর্য 


বয়স বত্রিশ বৎসর । তিনি নিরামিষাশী, নিষ্ঠাবান ও ধর্মনিষ্ঠ। 
সব রকম শারীরিক অথব! মানসিক কু অভ্যাস হইতে তিনি সম্পূর্ণরূপে 
মুক্ত । তথাপি শ্বপ্রদোষ হইয়া! তাহার বহুত বাঁধ্যপাত +হইত। 
তিনি অত্যন্ত দুর্বল ও নিরুৎ্সাহ হহয়া পড়েন। শেষে তাহার 
তলপেটে ভয়ানক বেদনা পর্যন্ত হয়। ইহা ছুই বৎসর পূর্বের কথা। 
এক আযুর্যেদ চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি বিবাহ করেন। এখন 
সম্পূর্ণ ভাল আছেন । 

“আমাদের প্রাচীন শাস্ত্র সমূহ ব্রহ্মচর্ধ্যকে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান দিয়াছে-_ 
একথ! আমি বিচারবুদ্ধির সাহায্যে ধারণা করিতে পারি॥। কিন্তু উপরে 
বর্ণিত অভিজ্ঞতা হইতে স্পষ্ট বুঝ! যাইবে, শুক্রগ্রন্থি হইতে যে বীধ্য 
উৎপন্ন হয়, তাহ! হজম করিয়। শরীরের ভিতর রাখিবার শক্তি আমাদের 
নাই। এজন্য ইহা বিষের মত কাধ্য করে। অতএব আপনার নিকট 
সবিনয় অনুরোধ, ক্রদ্ধচর্ধ্য ও আত্মসংযমের মুল্য সম্বন্ধে যাহাদের 
সন্দেহ নাই, সেইন্প আমার মতন লোকের স্থাবধার জন্য হঠযোগ 
অথবা প্রাণায়ামের মভ কোনো! সাধন! সম্বন্ধে কিছু বলুন। ইহার 
সাহায্যে আমরা শরীরের এই প্রাণশক্তিকে রক্ষা করিতে 
পারিব |, 

পত্রলেথকের দৃষ্টান্তগুলি অনাধারণ নহে । অনেকের জীবনে 
এরূপ ঘটিয়া থাকে । অনেক স্থলে অসম্পূর্ণ ঘটন1 হইতে সাধারণ 
সিদ্ধান্তে উপনীত হইবার চেষ্টা দেখিয়াছি । প্রাণশক্তি শরীরের ভিতর 
রাখা ও হজম করা বহু সময় ও অভ্যাস-সাপেক্ষ। ইহার অন্যথা 
হইতে পারে নাঃ কারণ ইহা শরীর ও মনকে যত শক্তিশালী করে, 
তাহ! আর কিছুতেই পারে না। ওঁষধপত্রাদদি শরীরকে সাধারণ 
অবস্থায় রাখিতে পারে, কিন্তু হহাতে চিত্তের দুর্বলতা এত বাড়ে ঘষে, 


৩৮ 


জীবনী-শক্তি সঞ্চয় 


মন ইন্ডদ্রিয়ের সহিত লড়াই করিতে সঙ্গম হয় না। প্রত্যেক ব্যক্তিকে 
এই সব ইন্দ্রিয় মারাত্মক শক্রর ন্যায় ঘিরিয়! রহিয়াছে । 

আমরা অনেক সময় এন্ধপ কাজ করি, যাহাতে আমাদের উপকার 
না হইয়া অপকারই বেশী হয়। তথাপি আমরা ভাল ফল চাই। 
আমাদের জীবনঘাপন প্রণালী এরূপ, যাহাতে সহজে ইন্দ্রিয় উত্তেজিত 
হয়। আমাদের ভোজন, সাহিত্য, আমোদ-প্রমোদ কাজকরার সমম্ন 
এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত যে, এইগুলি আমাদের পাশবিক বাসনার 
উত্তেজনা ও খোরাক যোগায় । আমাদের মধ্যের বেশীর ভাগ লোকের 
ইচ্ছ। বিবাহ করা, সন্তান উৎপাদন কর! এবং খুব পরিমিত হইলেও 
স্থখভোগ করা । আখের তক এই ব্যাপার কমবেশী চলিবে। 

কিন্তু সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম চিরকাঙগই থাকে । এমন লোকও 
দেখা গিয়াছে, যাহার! মানবজাতি অর্থাৎ ভগবানের সেবার জন্ত 
সম্পূর্ণরূপে জীবন উৎসর্গ করিয়াছেন। তাহারা সমগ্র মানব সমাজ ও 
নিজের পরিবারের সেবার মধ্যে কোনে। পার্থক্য রাখিতে চান না। 
ইহারা ব্যক্তিগত স্বার্থ-পিদ্ধির উপযোগী জীবন যাপন করিতে পারেন 
না। ধাহারা ভগবানের সেবার জন্য ব্রহ্মচর্্য ব্রত গ্রহণ করবেন, 
তাহাদিগকে &শখিল্য-ত্যাগ এবং কঠোর সংযমের ভিতর স্থথের সন্ধান 
করিতে হইবে । তাহারা ছুনিয়ায় থাকিবেন, কিন্তু দুনিয়ার পথে 
চলিবেন না । তাহাদের খাদ্য, কাজ, কাজের সমম্ন, আমোদ-প্রমোদ, 
সাহিত্য, জীবনের উদ্দেশ্ত অপর সাধারণ হইতে বিভিন্ন গ্রকার হইবে। 

এখন দেখিতে হইবে পব্জলেখক ও তাহার বন্ধু পূর্ণ-ব্রঙ্ষচর্ধয পালন 
করিতে ইচ্ছুক ছিলেন কি না, এবং নিজেদের জীবনকে সেই পথে 
চালাইতে চেষ্ট। করিয়াছিলেন কি না। যদি না! করিয়া! থাকেন, তবে 
একথা বুঝা শক্ত নঠে, কেন বীর্যপাতের ফলে প্রথম ব্যক্তির আরাম 


৬০৯ 


ব্রহ্মচর্্য 


ও দ্বিতীয় ব্যক্তির ছূর্বলতা দেখা দিয়াছিল। দ্বিতীয় ব্যক্তির পক্ষে 
বিবাহই ছিল প্রতিকারের উপায়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে মন যদ্দি বিবাহ- 
স্থখের চিন্তায় পূর্ণ থাকে, তবে এ অবস্থায় অধিকাংশ মানুষের' বিবাহ 
করাই ঠিক। যেচিস্তাকে সংযত করা যাইতেছে না, অথচ যাহাকে 
মূর্ত কর] হয় নাই, তার শক্তি, যে চিন্তাকে মূর্ত এবং কাজে পরিণত 
কর! হহয়াছে,তার অপেক্ষা অনেক বেশ । কাজকে বযথোচিত সংযত 
করা হইলে, চিন্তার উপর ইহার প্রভাব পড়ে এবং ইহা চিন্তাকে 
নিয়ন্ত্রিত করে। কাধ্যে পরিণত হইলে চিন্তার অবস্থা হয় কয়েদীর 
মত--তখন চিস্ত। আয়ত্তাধান হয়। এই হিসাবে বিবাহ এক প্রকার 
ংযম। 

যাহারা নিয়মিতভাবে সংযত জীবন যাপন করিতে চান, তাহাদের 
জন্য খবরের কাগজের প্রবন্ধে আমি খু'টিনাটী পরামর্শের কথা লিখিতে 
পারিনা । এই উদ্দেশে কয়েক বৎসর পুর্বে লেখা আমার “আরোগ্য 
নীতি” তাহাদিগকে পড়িতে বলি। নৃতন অভিজ্ঞতা অঙ্ুসারে ইহার 
কয়েকস্থান পুনলিগখত হওয়া উচিত, কিন্তু ইহার ভিতর এমন কিছু শাই, 
ষাহা আমি বাদ দিতে ইচ্ছা করি। সাধারণ নিয়মগুলি আমি নীচে 
(দিতোঁছ। 

(১) পরিমিত ভোজন করিবে । অল্প ক্ষুধা থাকিতেই খাওয়। 
ছাড়িয়া উঠিবে। 

(২) বেশী গরম মশলা এবং ম্বততৈল যুক্ত নিরামিষ খাদ্যও 
ত্যাগ করিবে । যথেষ্ট ছুধ মিলিলে, ঘ্বততৈল প্রভৃতি চর্বিজাতীক্ব 
পদ্দার্থ গ্রহণ কর! সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। যখন জীবনীশক্তির অল্প অপব্যক্ 
হয়, তখন অল্প আহারই যথেষ্ট। 

(৩) পবিত্র কাজে মন ও শরীরকে নিযুক্ত রাখিবে। 

৪6৩ 


জীবনী-শক্তি সঞ্চয় 


(৪) সকালে ঘুম হইতে উঠিবে এবং সকালে শুইবে। 

(৫) সর্বোপরি, সংত জীবন কাটাইতে হইলে, ভগবদ্প্রাপ্তির 
জন্য প্রবল আকাতঙ্ঘা থাকা চাই। ষখন এই পরম তত্ব প্রত্যক্ষভাবে 
অনুভব করা যায়, তখন হইতে ভগবানের উপর এই নির্ভরতা আসে 
যে, তিনি নিজে মানুষকে পবিত্র ও কম্মশীল রাখিবেন। 

গীতায় আছে-_ 

বিষয় বিনিবর্তস্তে নিরাহারস্ত দেহিনঃ | 
বসবজং রসোহপ্যস্ত পরং দৃষ্ট1 নিবর্তৃতে | 

"উপবাস সত্বে ইন্দ্রিয় পুনঃ পুনঃ ফিরিয়। আসে। কিন্তু পরম পদার্থ 
ভগবানকে দেখিলে, বিষয়-বাসন। চলিয়া যায় । ইহা অক্ষরে অক্ষরে 
সতা। 

পত্রলেখক আসন ও প্রাণায়ামের কথা বলিয়াছেন। আমি বিশ্বাস 
করি, আত্মসংযম অভ্যাস করার পক্ষে ইহার প্রয়োজন আছে । কিন্তু 
দুঃখের সহিত বলিতে হইতেছে, এ বিষয়ে আমার নিজের অভিজ্ঞত! 
যাহা আছে তাহ লেখার যোগ্য নহে। যতটুক আমি জানি, তাহাতে 
মনে হয়, বর্তমান অভিজ্ঞতা লইয়া লিখিত কোনো বই এই বিষয়ে 
নাই। ইহা গবেষণ।-যোগা। কিন্তু অনভিজ্ঞ পাঠকদিগকে ইহা 
প্রয়োগ করিতে, অথবা! যে-কোনো হঠযোগীর সাক্ষাৎ পাইলেই, 
তাহাকে গুরু বলিয়া মানিয়া তার নিকট পরামর্শ লইতে আমি 
নিষেধ করি। তাহারা নিশ্চিত ভাবে জানিয়া রাখুন, সংযত ও 
ধশ্মজীবন যাপন করাই সংষম পালন করার পক্ষে যথেষ্ট । 

ইয়ং ইত্ডিয়া. ২ সেপ্টেম্বর, ১৯২৬১,_ মোহনদাস করমটাদ গান্ধী। 


৪১ 


আত্ম-কথ। 


এখন আসিল ব্রহ্ষতর্যয সম্বপ্ধে ভাবনা । বিবাহের সময় হইতে 
আমার হৃদয়ে এক-পত্বী-ব্রত স্থান পাইয়াছিল। আমার সত্যব্রতের 
এক অঙ্নই ছিল পত্বীর প্রতি বিশ্বস্তত। ৷ কিন্তু নিজের স্ত্রীর সহিত 
্র্ষচর্য পালন করার গুরুত্ব আমি দক্ষিণ আফ্রিকাতেই পরি্ধার 
ভাবে বুবি। আমার ঠিক ঠিক ম্মরণ হইতেছে নাকি প্রসঙ্গে 
অথবা কোন পুস্তক পাঠে আমার এ চিন্তা আসে। তবে 
মনে পড়িতেছে এই সম্বন্ধে রায় টাদ ভাইএর প্রভাব আমার উপর 
যথেই পড়িয়াছিল। 

তাহার সঙ্গের একটি কথা মনে আছে। এক শুময় আমি শ্রীযুক্ত 
গ্লাডষ্টোনের প্রতি শ্রীমতী গ্লাডষ্টোনের প্রেমের ক" উল্লেখ করিয়া 
তাহার বড় প্রশংসা করি। আমি বলিয়াছিলা। পালণমেপ্টের 
বৈঠকেও শ্রীমতী গ্লাডষ্টোন স্বামীর জন্ত চা তৈরী করিয়া দিতেন। 
এই দম্পতির পক্ষে ইহাও এক দস্তর হইয়া পড়িয়াছিল। আমি 
তাহাকে ইহা পড়িয়৷ শুনাইয়। তাহাদের দাম্পত্য প্রেমের গ্রশংস। 
করিয়াছিলাম। রায় চাদ ভাই বলিয়াছিলেন, ইহার ভিতর প্রশংসার 
কি দেখলে তুমি? শ্রীমতী গ্লাডষ্টোনের পাতিব্রত্য ও সেবাবৃত্তি, 
এর মধো কোনটার প্রশংশা কর? কিন্তু এ মহিলা যদ্দি তার 
বিশ্বস্ত ভৃত্য অথবা ভগ্নী হতেন, এবং তাঁকে এ ভাবে সেবা 
' করতেন, তবে তুমি কি বলতে? এব্ূপ কোনে ভূত্য পাওয়া যায় 
(৪২ 9 


আত্মকথ। 


নাকেন? কোনো পুরুষের ভিতর এইরূপ প্রেম দেখলে তোমার 
আনন্দ ও বিম্ময় হয় না কেন? আমি যা বল্লাম তা ভেবে দেখে। 1৮ 

রায় চাদ ভাই বিবাহিত ছিলেন। আমার মনে পড়িতেছে, 
সেই মুহুর্তে তাহার কথাগুলি আমার নিকট বড় কঠোর ঠেকিয়াছিল। 
কিন্কু ইহ! আমি কখনও ভুলিতে পারি নাই। স্ত্রীর পতিভক্তি 
অপেক্ষ৷ ভূত্যের প্রতৃভক্তি যে হাজারগুণ প্রশংসনীয়, তাহা আমি 
পরে বুঝিয়াছি। পতি-পত্বীর ভিতর অচ্ছেদ্য বন্ধন আছে, এ জন্তু 
তাহাদের মধ্যে প্রেম থাকা আশ্চধ্যজনক নহে । গ্রভু-ভূত্যের মধ্যে 
এইব্রপ প্রেম জন্ম খুব শক্ত । কবি রায় টাদ্দের কথা ক্রমে হৃদয়ঙ্গম 
হইতে লাগিল। 

আম নিজেকে গুশ্ন করিলাম, 'পত্বীর সহিত কি সম্বন্ধ রাখিব? 
পত্বীকে বিষয় ভোগের বস্তু বাণাইলে, তাঁর সহিত বিশ্বস্ততা! থাকিল 
কই? ষতদ্দিন পধ্যন্ত বিষয় বাসনার অধীন থাকিব, ততদিন পধ্যস্ত 
আমার বিশ্বস্ততার কি মুল্য আছে ?৮” একথা বলা উচিত মনে 
করিতেছি যে, আমার পত্রী কখনও আমাকে প্রলুব্ধ করেন নাই। 
এজন আমিই সঙ্কল্প করিতে পারিলে, ব্রঙ্গচর্ধ্য-ব্রত গ্রহণ করা খুব 
সহজ ছিল। আমার দুর্বলতা ব। কামেচ্ছা! আমার বাঁধ। ম্বরূপ ছিল। 

বিবেক বুদ্ধি জাগ্রত হওয়ার পরেও আমি অকৃতকাধ্য হইয়াছি। 
আমার এই চেষ্টার মুখ্য উদ্দেশ্য মহৎ ছিল না। এই উদ্দেশ্য ছিল 
সম্তান-নিগ্রহ। বিলাতে থাকিতে আমি এই সম্বন্ধে কিছু পড়িয়াছিলাম। 
নিরামিষআহার অধ্যায়ে জন্মমিয়ন্ত্রণা সম্বন্ধে ডাক্তার 
এলিসনের কথা বলিয়াছি। ইহা আমার উপর কিছু সাময়িক প্রভাব 
বিস্তার করে। কিন্তু গ্রযুক্ত হিম্ম্‌স্‌ সাহেব ইহার বিরুদ্ধে প্রচার করেন। 
সাধনা এবং সংযম দ্বারা কিরূপে, জন্মনিয়ন্ত্রণ কর! যায় তিনি তাহ! 

73৩ 


ব্রহ্ষচর্ধয 


প্রচার করেন। ইহার প্রভাবও আমার উপর পড়ে। যখন বুঝিলাম, 
আমি আর সন্তান চাহিনা, তখন হইতে সংযমী হইতে চেষ্টা স্থ্রু 
করিলাম। | 

সংযম পালন করিতে গিয়া মুস্কিলের অবধি ছিল না। আমর! 
পৃথক বিছানায় শোয়া আরম্ভ করিলাম। সম্্ত দিনের কাজ 
করিতে করিতে ক্লান্ত হইয়া পড়িলে শয্নের বন্দোবস্ত করিতাম। 
এই সব চেষ্টায় খুব শীঘ্র ফল পাইয়াছিলাম মনে হয় না। কিন্তু এখন 
অতীতের দিকে চাহিয়া বলিতে পারি যে, এই রূপ বিফল চেষ্টাই 
আমাকে শেষকালে বল দিয়াছিল। 

১৯০৬ সালে শেষ সন্কল্প করিলাম। তখনও সত্যগ্রহ আরম্ভ হয় 
নাই। স্বপ্নেও ইহার কথা ভাবি নাই। বুয়ার যুদ্ধের পর নাটালে 
জুলুবিদ্রোহ হয়। তখন আমি জোহান্লিস্বার্গে বারিষ্টারী করিতাম। 
মনে হইল, এই সময় আমাদের নাটাল-সরকারের সাহায্য করা দরকার। 
আমি সরকারকে ইহা জানাইলাম। সরকার রাজী হইলেন। সে 
কথা পরে বলিব । এই সেবার সময় সংযম সম্থষ্ষে আমার খুব 
জবর ভাবনা আসে । সাধীদের সহিত এ বিষয়ে আলোচনা করিলাম । 
আমার দৃঢ় ধারণা হইল, সম্ভতানোৎপাদ্দন ও সন্তান-পালন দেশ-সেবার 
বিরোধী। আমাকে জোহান্লিসবার্গের গৃহস্থাজি উঠাইতে হইল। 
এক মাসের ভিতর এ সাজান ঘর আমাকে ছাড়িতে হইল। পত্তী 
ও বালকদ্িগকে ফিনিক্সে রাখিলাম এবং ভারতীয় ০সবক দল লইয়া 
নাটাল ঠসন্থদলের সহিত চলিলাম। কঠোর কুচ-কাওয়াজ করার 
সময়, হঠাৎ চিন্তা আসিল, তন্ময় হইয়া লোকসেবা করিতে চাহিলে, 
সম্তান-সম্তভতি ও অর্থপ্রান্তির আশ ত্যাগ করিতে হইবে এবং বানপ্রস্থ 
অবলম্বন করিভে হইবে। 

৪5৪8 


আত্মকথ। 


দেড়মাসের বেশী «ই কাজে থাকিতে হয় নাই। কিন্তু আমার 
জীবনের সবচেয়ে মুল্যবান স্ময় এই ছয় সপ্তাহ। ব্রতের মহত্ব আমি 
এই সময় স্পষ্টভাবে বুঝিলাম। দেখিলাম ব্রত শ্বাধীনতার দ্বার, 
বন্ধনের দ্বার নহে । এ পধ্যস্ত আমি কুতকার্ধা হই নাই, তার কারণ 
আমার দৃঢ়সঙ্কল্প ছিল না, আমার নিজের উপর বিশ্বাস ছিল না, 
ভগবানের করুণায়ও আমি বিশ্বাস করিতাম না। এজন্য আমার 
চিত্তবিকার হইত | আমি বুঝিলাম, যে ব্যক্তি ব্রতবন্ধনে আবদ্ধ নহে 
সে মযোহপাশ কাটিতে পারে না। ব্যভিচার ত্যাগ করিরা একপত্বীর 
সহিত সম্বন্ধ রাখা ব্যাপারটি যেমন, ব্রত গ্রহণ করিয়া সংযমী হওয়ার 
চেষ্ট/ করাও তেমন । “আমি পুরুষকারে বিশ্বাস করি কিন্তু ব্রতবন্ধনে 
আবন্ধ হইতে চাহি না” ইহ। ছুর্বলচিত্ত ব্যক্তির কথা । ইহার ভিতর 
সুক্ষ্রবূপে ভোগবাসন] লুকায়িত আছে। যাহা ত্যাগ করার যোগ্য, 
তাহা সব সময়ের জন্ত ত্যাগ করায় হানি কি? যে-সাপ আমাকে 
কাটিবে তাহাকে আমি নিশ্চহই ত্যাগ করি; ত্যাগ করার জন্য চেষ্টা 
করিয়া আমি ক্ষান্ত হই না। আমিজানি শুধু চেষ্টায় মৃত্যু ঠেকাইবে 
না। থালি চেষ্ট। করিব বলিলে বোঝা যায়, সাপের বিষের অনিষ্ট- 
কারিতা সম্বন্ধে আমার জ্ঞান অল্প আছে। যে বস্ত ত্যাগ করার 
চেষ্টামাত্র করিয়া! আম সন্ভুষ্ট, সে বস্ত ত্যাগ করা যে প্রম্বোঙ্জন, তাহা 
আমি বিশেষভাবে উপলব্ধি করি নাই। যদি আমার মত ভবিষাতে 
ব্দলাইম। যায় তবে কিরূপে শপথ গ্রহণ করিব? এইবধপ আশঙ্ব! 
করিয়া আমরা অনেক সময় ব্রত গ্রহণ করিতে ভয় পাই। এজন 
নিস্কুলানন্দ কহিয়াছেন-_ 

“ত্যাগ ন টকে বে বৈরাগ বিন1।” 
বৈরাগ্য বিনা ত্যাগ স্থায়ী হয় লা। যাহার কোনে বিষয়ে 
৪৫ 


ব্রহ্গচর্ষ্য 


পূর্ণ বৈরাগ্য উৎপন্ন হইয়াছে, সেখানে তার পক্ষে ব্রত বা শপথগ্রহণ কর। 
অনিবাধ্য বিধান। 

ভালভাবে আলোচন। ও পাকাপাকি চিন্তার পর ১৯০৬। সালে 
আমি ব্রত গ্রহণ করিলাম। এ পধ্যস্ত আমি স্ত্রীকে কিছুই জানাই 
নাই; কিন্তু ব্রত লইবার সম্ম তাহার সহিত আলোচন! করি। তিনি 
কোনে। বাধা দিলেন ন1। 

এই সময় ভারি মুক্কিলে পড়িয়াছিলাম । আমার শক্তি ছিল 
কম। কিরূপে আমি ইন্দ্রিয় দমন করিব? স্ত্রীর সহিত কাম সম্বন্ধ 
ত্যাগ করা আমার নিকট নৃতন ঠেকিল। তথাপি আমি স্পষ্ট দেখিতে 
পাইলাম, ইহাই আমার কর্তব্য। আমার উদ্দেশ্য মহৎ--ভগবান 
শক্তি দিবেন ভাবিয়া আমি ইহাতে ঝাপাইয়া পড়িলাম। 

বিশ বৎসর পরে সেই ব্রতের কথা ন্ররণ করিয়া আমার অন্তঃকরণ 
বিস্ময় ও পুলকে পূর্ণ হইতেছে । ১৯০১ সাল হইতে আমার সংযম 
পালনের ইচ্ছ! প্রবল হয়, এবং তখন হইতে আমি ইহ1 অল্প বিস্তর 
পালন করিতে ছিলাম; কিন্তু ১৯০৬ সালে যে-ম্বতন্ত্রতা-স্থথ অন্থভব 
করিলাম, তাহা পুর্বে কখনও করি নাই । কারণ ইহার পূর্বেবে আমি 
বাসনাবদ্ধ ছিলাম, যখন-তখন ইন্ডট্রিয়ের অধীন হইতাম। এখন 
হইতে ব্রতই আমাকে প্রলোভন হইতে রক্ষা]! করিয়াছে। 


ব্রহ্মচর্যোর মহিমা! আমি বেশী বেশী বুঝিতে লাগিলাম। ফিনিক্জে 

থাকিতে ব্রত গ্রহণ করিয়াছিলাম। আহত-সেবার কাজ হইতে 

ছুটী পাইয়া ফিনিক্সে গিয়াছিলাম। সেখান হইতে আমাকে শীভ্রই 

জোহান্রিসবার্গে যাইতে হইল । সেখানে যাওয়ার এক মাসের ভিতর 

সত্য গ্রহের বুনিয়াদ পত্তন হইল । কে জানে, ব্রহ্মচর্ধয আমাকে এই 

কাজের উপযোগী করিয়া গড়িতেছিল কিনা! সত্যগ্রহের কথা আমি 
৪৩৬ 


আত্মকথা 


পূর্বেব কল্পনাও করি নাই । ইহা অনায়াসে অনিচ্ছায় আসিয়া পাড়িল। 
কিন্তু আমি দেখিলাম ইহার পূর্বেকার ঘটনায় আমাকে এই আদর্শের 
দিকে লইয়া! আসিয়াছে । ফিনিক্সে যাওয়া, আমাকে আদরে 
পৌছিবার উপযোগী করিয়াছিল । 


পূর্ণ ব্রহ্মচর্যয পালনই ব্রহ্মদর্শন | এজ্ঞান আমার শান্ত্রপাঠে হয় 
নাই । এই জ্ঞান অভিজ্ঞত1 হইতে ধীরে ধীরে লাভ হইয়াছে । ব্রত 
লওয়ার পর, দিন দিন আমার এই জ্ঞান হইয়াছে ষে, ব্রহ্মচর্ধ্য দ্বারা 
শরীর মন ও আত্ম] রক্ষ। হয় । এখন হইতে ব্রহ্ষচর্ধ্যকে কঠোর তপস্যার 
ন্যায় ঠেকিত না ইহ1 আনন্দ শাস্তি ও তৃপ্তি দান করিত । এজন্ত আমি 
প্রত্যহ ব্রন্ষচধ্যের নূতন সৌন্দধ্য দেখিতাম। 

কিন্তু একথ যেন সকঙ্গে মনে রাখেন যে, যদিও আমি ইহা পালন 
করিয়া বেশী বেশী আনন্দ পাইতাম, তথাপি ইহা আমার পক্ষে সহজ 
ছিল না। ছাপ্লান্গ ব্সর পার হইয়া এখনও বুঝিতেছি ইহা কত 
শক্ত। আমি ক্রমশঃ বুঝতেছি, এই ব্রত পাজন করা তলোয়ারের 
ধারের উপর দিয় চলার স্তায় কঠিন। এজন্য নিরন্তর সজাগ থাকতে 
হয়। 

ব্রহ্মচধ্য পালন করিতে ভইলে, সর্বপ্রথম লোভ দমন করিতে 
হইবে । নিজে দেখিয়াছি, রসনেক্দ্রিয়কে সম্পুণ ৰশে আনিতে পারিলে, 
ব্হ্ষচর্যা পালন করা অতিশয় সহজ হয়। এজন্য এ স্ময় হইতে 
ক্বেল নিরামিষাশীরূপে নহে, ব্রহ্মচারীর দৃষ্টিতেও আহার নির্বাচন 
করিতে হইবে । খাদ্য পরিমিত, সাদাসিধে, মশলাহীন ও সম্ভব ভইলে 
কাঁচা হওয়। চাই । আমি এদব পরীক্ষ। করিয়। দেখিয়াছি। 

ছয় বৎসর পরীক্ষার পর বুঝিয়াচি, টাটক। ফল ও বাদাম ব্রহ্গগার্ীর 
উপযুক্ত খোরাক। বখন আমি শুর্ক অথবা পাকা ফল খাইয়। থাকিতাম, 

৪৭ 


ব্রহ্মচর্থ্য 
তখন যেরূপ নিবিকার থাকিতে পারিতাম, থোরাক বদলাইলে সেরূপ 
থাকিতে পারি নাই । ফলাহাঁর করার সমস্ব ব্রহ্ষচর্ধ্য পালন করা সহজ 
ছিল, ছুপ্ধপানের সময় আমাকে এজন্য বিশেষ বেগ পাইতে হইত। 
ফলাহার ছাড়িয়া আবার ছুধ ধরিলাম কেন, তাহ! উপযুক্তস্থানে 
আলোচিত হইবে । এখানে ইহা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ব্রহ্মচর্যোর 
পক্ষে দুধ বিদ্রশ্ব্ূপ। ইহা হইতে কেহ ষেন মনে না করেন, ব্রহ্মচারী 
মাত্রকেই দুধ ত্যাগ করিতে হইবে । ব্রহ্গচর্য্যের উপর বিভিন্ন প্রকার 
থাদ্যের কিক্ধপ প্রভাব পড়ে, তাহা অনেক পরীক্ষার পর স্থির করা 
দরকার। ছুধের মত পেশী নিশ্মাতা ও এবপ সহঙ্গপাচ্য কোনে 
ফলের সন্ধান আজ তক পাই নাই। কোনো ডাক্তার কবিরাজ হেকিমও 
ইহা বলিতে পারেন নাই। এ জন্ত ছুধকে উত্তেজক জানিয়াও, 
কাহাকেও ইহ! ত্যাগ করিবার পরামর্শ দ্রিতে পারি না। 

খাদ্য নির্বাচন ও ইহার পরিমাণ নির্ধারণের ন্যায় উপবাসও 
ব্রহ্ষচর্যের বাহিক সহাফ্তাকান্দী। ইন্দ্র এরূপ বলবান যে, 
তাহাদিগকে চারিদিক হইতে নিগ্রহ করিলেও, সুম্াকারে ইহ! থাকিয়া 
যায়। এ কথা সকলে জানেন যে, ইন্দ্রিয় সকল আহার বিনা শক্তিহীন 
হয়। এ জন্য সংযমের উদ্দেশে ইচ্ছাকৃত উপবাসে ইন্দ্রিঘদমনের 
সাহাষ্য করে । কতলোকে উপবাস করিয়াও কোনো ফল 
পায় না। তাহারা ভাবে তাহার! খুব উপবাদ করিতে পারে। 
তাহার! বাহ্িক উপবাস করে, কিন্ত মনে হনে ছাপান্ন প্রকার 
জিনিষ ভোগ করে; উপবাসের সময় তাহার! পরে কি 
খাইবে কি পান করিবে, তাহা লইয়া ব্যস্ত থাকে। এক্ধপ উপবাস 
দ্বারা লোভ অথবা কাম কিছুই দমন হয় না। মানুষের মন 
যখন ইক্ড্রি্দমনের সহায়তা করে তখনই উপবাসে উপকার করে। 


৪৮ 


আত্মকথা 


বিষননভোগের প্রতি টবরাগ্য হওয়া চাই । মনই সমস্ত বিষয়বাসনার 
মূল। উপবাসে সীমাবদ্ধ ফল পাওয়া যায়, কিন্তু উপবাসকারী লোকও 
ইঞ্জিয়ের দাস হইতে পারে। উপবাস ভিন্ন বিষয়বাসনার মূল নষ্ট 
করা আমার নিকট অসম্ভব ঠেকে । এজন্য ব্রদ্ষচারীর পক্ষে উপবাস 
অপরিহাধ্য । অনেকে ব্রহ্ষমচধ্য পালন করিতে গিয়া! অকৃতকাধ্য হয়, 
কারণ খানাপিন। প্রভৃতি বিষয়ে অব্রদ্ষচারীর মতন থাকিয়াও তাহার! 
ব্রহ্মর্য পালনের ইচ্ছা করে । গরমের দিনে শীতকালের ঠাণ্ডা অন্ু- 
ভব করার চেষ্টার ন্যায়, তাহাদের উদ্যম ব্যর্থ হয়। সংষমী ও শ্থেচ্ছা- 
চারী, যোগী ও ভোগীর জীবনের ভিতর স্পষ্ট পার্থক্য থাকিবে। 
তাহাদের মধ্যে যে মিল, তাহ! কেবল বাহক । এই ভেদ ক্্্যালোকের 
ন্যায় স্পষ্ট দেখিতে হইবে। ছুজনেই চোখ দিয়া দেখে; কিন্তু 
ব্রহ্মচারী ভগবানের মহিম! দর্শন করে, এবং ভোগী নাচ তামাসা 
দেখিতে মত থাকে । উভদ্দেই কাণের ব্যবহার করে; কিন্তু একজন 
শোনে ঈশ্বর-ভ্জন আর একজন শোনে বিলাস-সঙ্গীত | ছু জনেই 
অনেক সময় রাত্রি জাগরণ করে; কিন্তু একজনে এই সময় হৃদয় 
মন্দিরে অবস্থিত ভগবানের প্রার্থনা করে, আর এক জন রঙ্গরস 
বৃত্যগীতে মত্ত থাকিয়া ঘুমের কথ ভুলিয়া! যাম্ব। ছু জনেই ভোজন 
করে; কিন্ত এক জন দেহ মন্দিরকে ঠিক রাখার জন্ত আহার করে, 
আর এক জন জিহ্বার তৃত্থির জন্য নানারকম জিনিষ দিয়া উদর পূর্ণ 
করে এবং শরীরকে দুর্গন্ধযুক্ত নর্দামার মতন করিয়। ফেলে। ছু 
জনের ভিতর আকাশ পাতাল প্রভেদ, ইহ। বাড়িবে বই কমিবে না। 
কাযমনোবাক্যে সমস্ত ইন্ড্রির সংযমই ব্রহ্ষচধ্য । আমি প্রত্যহ ক্রমশঃ 
বুঝিতেছি, ইহার জন্য উপরোক্ত উপায়ে সংযমের বিশেষ প্রয়োজন 
আছে। ত্যাগের যেরূপ সীমা নাই, সেইরূপ ব্রন্ষচধ্যেরও সীম। নাই। 


৪6৯ 


ব্রহ্মচর্্য 


এন্প ব্রহ্মতর্য্য অল্পচেষ্টায় লাভ হয় না। কোটি কোটি লোকের পক্ষে 
উহা তে! আদর্শরূপেই থাকিয়া যাইবে । ক্রহ্মচরী সর্বদা নিজের 
ক্রটীর দিকে নজর রাখিবেনঃ আপনার অস্থি-ষজ্জার ভিতর লুক্কাপ্িত 
বিকার ভাব ও ইন্দ্রিয় সকলকে চিনিয়া রাখিবেন, এবং সে সব দুর 
করার জন্য চেষ্টা করিবেন। যতদিন পর্যযস্ত চিস্ত! ইচ্ছাশক্তির বশে 
না আসিবে, ততদিন পধ্যস্ত পূর্ণ ব্রহ্মচধ্য পালন করা অসম্ভব। অনিচ্ছ। 
প্রন্থত চিন্তা মনের বিকার । মনকে বশে রাখিতে পারিলে, চিন্তাও 
বশীতৃত হইবে। বায়ুকে বশ করা অপেক্ষা মনকে বশ করা কঠিন। 
কেহ যেন মনে ন! করেন, ইহ অসম্ভব । ইহ! সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ, এবং 
এই আদর্শে পৌছিবার জন্য যে বিপুল চেষ্ট। করিতে হইবে, তাহাতে 
বিস্ময়ের কিছু নাই । 

দেশে আসিয়া আমি বুঝিয়াছি, এইরূপ ক্রহ্ষচ্া কেবল মানবী 
চেষ্টায় লাভ হয় না। এপর্যযস্ত আমার এক ভূল ধারণা চিল ং আমি 
ধরিয়া লইয়াছিলাম ফলাহার দ্বার! ইন্দ্রিয়ের মূল পর্যন্ত উচ্ছেদ করা 
ষাযস় এবং অভিমান বশে ভাবিতাম, আমার আর কিছু করার দরকার 
নাই। 

কিন্তু এসব কথ পরে আলোচিত হইবে । আমি স্পষ্ট বলিয়া রাখি, 
যাহারা ভগবদপ্রাপ্তির জন্য ব্রহ্ষচধ্য পালন করিতে ইচ্ছুক, তাহারা 
যেন হতাঁশ না হন। অবশ্য নিজেদের চেষ্টার উপর তাহাদের 
যতখানি বিশ্বাস আছে, ভগবানের উপর তাহাদের ততখানি বিশ্বাস 
থাকা চাই। 

বিষয়া বিনিবর্তস্তে নিরাহারস্ত €দহিনঃ 
রসবর্জং রসোহপ্যস্য পরং দৃষ্ট। নিবর্ততে । 

নিরাহারীর বিষয় তৃষ1 শান্ত থাকে, কিন্তু রস (বিষয় ভোগেচ্ছ! ) 
থাকিয়া যায়। রসও ঈশ্বরদর্শন দ্বারা শাস্ত হয়। সে জন্য ভগবানের 
নাম ও ভগবানের করুণ মোক্ষকামীর শেষ অবলম্বন । হিন্ুস্থানে 
ফিরিয়া! আসার পর আমি এই সত্যের সন্ধান পাই । 

হিন্দী-নবজীন ২* ও ২৭ জানুরারা,১৯২৭--মোহনদীস করমচাগ গান্ধী । 


ও 


জম্ম-নিরোধ 


যথেষ্ট সঙ্কোচ এবং অনিচ্ছার সহিত আমি এই বিষয় আলোচন! 
করিতে যাইতেছি। ভারতে ফিরিয়া আনার পর হইতেই, কৃত্রিম 
উপায়ে জন্ম-নিয়্ত্রণ সম্বন্ধে আমি অনেক চিঠি পাইয়াছি। ব্যক্তিগত 
ভাবে এই বিষ্ধ আলোচন! করি নাই। ৩৫ বংমর পূর্বে ইংলগ্ডে 
ছাত্রাবস্থায়। ইহার প্রতি আমার দৃষ্টি আকুষ্ট হয়। একজন পবিভ্রতাবাদী 
ও একজন ডাক্তারের মধ্যে তুমুল আন্দোলন হয়.পবিভ্রতাবাদী প্রান্তিক 
উপায়ে সম্তান-নিরোধের পক্ষপাতী ছিলেন, ডাক্তার ছিলেন কৃত্রিম 
উপায়ের পক্ষপাতী । জীবনের সেই প্রথম অবস্থায়, কিছুদিন আমি 
কৃত্রিম উপায়ের পক্ষপাতী হইয়াছিলাম; কিন্তু শীঘ্রই ইহার বিরোধী 
হইয়া দাড়াই। বর্তমানে কতকগুলি হিন্দী-কাগজে এই 1বষয় এমন 
আপত্তিজনক তাবে বণিত হইয়াছে যে, তাহাতে শ্লীলতার সীম! 
অতিক্রম করিয়াছে। কৃত্রিম উপায়ের পক্ষপাতী বলিয়া আমার নাম 
উল্লেখ করিতেও এক জন লেধক ইতন্ততঃ করেন নাই। এ সম্স্ধে কিছু 
বলিয়াছি অথবা লিখিয়াছি বলিয়া মনে হয় না। আরও ছু'জন 
বিখ্যাত ব্যক্তির নাম ইহার সমর্থনকারীরূপে দেখিয়াছি। তাহাদিগকে 
না বলিয়া তাহাদের নাম প্রকাশ করিতে চাই না। 

জন্ম-নিরোধের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে দুই মত হইতে পারে না। 
কিন্তু প্রাচীন যুগ হইতে আত্ম-সংষম ঝা ত্রহ্মচর্ষেের সাহাধ্যে এ বাধ্য 
হইয়া আসিতেছে। ইহা অবার্থ মহৌষধ। যাহারা ইহা অভ্যাস 

৫১ 


ব্রক্মচর্ধ্য 


করেন, ইহ! তাহাদের মল করে। জন্স-শাসনের কত্রিম উপায় 
আবিষ্কার ন। করিয়া, আত্মসং্ঘমের উপায় বাহির করিতে পারিলে, 
চিকিৎসকগণ মানবজাতির কৃতজ্ঞত। লাভ করিবেন। সহবাসের উদ্দেশ্য 
সখ নহে, ইহার উদ্দেশ্য বংশরক্ষা। সন্তান লাভের ইচ্ছা না থাকিলে 
যৌনমিলন অপরাধ । 

কৃত্রিম উপায় অবলঘ্ধনের অর্থ পাপকে প্রশ্ন দেওয়া। ইহার ফলে 
সত্ীপুরুষ সকলে উচ্ছতঙ্খস হয়। এই উপায়কে ষেরূপ সম্মানজনক 
মনে কর হইতেছে তার ফলে, সমাজের ভয়ে লোকে যতখানি 
সংযত হইয়া! চলে, তাহা দ্রুত নষ্ট হইর়। যাইবে । কৃত্রিম উপায় 
অবলম্বনের ফলে দুর্বলতা! ও স্নায়বিক দৌর্বল্য বাড়িবে; ব্যাধি 
অপেক্ষা ওউষধে বেশী ক্ষতি করিবে । কোনো কাজ করিয়া, তার ফল 
এড়াইতে যাওয়া অন্তায় ও নীতিবিরুদ্ধ। যে অতিরিক্ত খায়, পেটের 
বেদনা হইলে, এবং উপবাস করিলে তাহার মঙ্গল হয়। আক 
ভোজন করিয়া, তার ফস হইতে মুক্ত হইবার জন্ত টনিক অথবা অন্ত 
ওষধ খাইলে ক্ষতি হয়। বেপরোয়াভাবে ইন্ড্রির-সেবা করিয়া, তার 
ফল এড়াইতে চাওয়। আরও খারাপ। প্রকৃতি দেবী নির্দম, তাহার 
আইন ভঙ্গ করিলে তিনি পূর্ণ প্রতিহিংসা গ্রহণ করেন। ঠনতিক 
বাধ! দ্বারাই নৈতিক ফল পাওয়া যায়। অন্য উপায়ে ঠেকাইতে গেলে 
ঠেকানর আসল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়। কৃত্রিম উপায় অবলম্বনকারীরা 
এই যুক্তি পেশ করেন যে. একটু হাল ছাড়িয়া দিয়া চলাই জীবনের 
পক্ষে দরকারী । ইহার অপেক্ষা কিছুই ভ্রমপূর্ণ হইতে পারে ন1। 
যাহারা জন্স-নিয়ন্ত্রর করিতে উৎস্থক, প্রাচীনকালে লোকে কিব্ধপে 
ম্তায়সজত উপায়ে ইহ করিতেন তাহারা তাহ! স্থির করিয়া সেই পথ 
পুনঃপ্রচলনের চেষ্টা করুন। তাহাদের সম্মুথে অনেক প্রাথমিক 

€২ 


ঈম-নিরোধ 


বাঁধাবিপত্তি আমিবে। বাল্য বিবাহের ফলেও নোক-মংধ্যা যথেট 
বাড়িতেছে। বর্তমান কানের জীবনযাগন-গ্রণানী& অবাধ বংশবৃদ্ধি 
গু আনক থানি দায়ী। এই সব কারণ অনুমন্ধান করিয়া) গ্রতিকারের 
উপায় অবলদন বরিলে নীতি হিনাবে মমাজ উন্নত হইবে। 
অধৈর্য হইয়া লোকে যদি এসব অগ্রাহথ করে এবং কৃতি উপায় যি 
রচিত হইয়া উঠে, ভবে ইহাতে নৈতিক অধংগতন ভিন আর কিছু 
হইতে পারে না। 

যে সমাজ নানা কারণে দুর্বল হইয়াছে, কিম উপায় অবশষথন 
করিরে। তাহা আরও শক্তিহীন হইবে। যাহারা চিন্তা না করিয়াই 
রিম উপায় দমরঘন করেন, তাহার! যেন আবার এই বিষয় আমোচনা 
করেন। তাহাদের অনিষ্টকর গরচার হইতে বিরত থাকেন, এবং 
বিবাহিত অবিবাহিত মলের ভিতর বর্র্য গচার করেন। ইহাই 
জনম নিয্রণের শেঠ ও মহজ উগায়। 


ইয়ং ইঞ্চি--১২ মার্চ ১১২৫-মোহনদম করম গাী 





শেষ কথা * 


যাহার! ইন্্রির পরিতৃষ্থিকে ধন্ম কাজের ন্যায় বিশেষ প্রয়োজনীয় 
মনে করেন ন| এবং সংযম পালন করিতে চেষ্টা করিতেছেন, নীচের 
কথাগুলি তাহাদের উপকারে লাগিতে পারে £ 

১। তুমি যদ্দি বিবাহিত হও, তবে স্ত্রীকে ভোগের সামগ্রী মনে 
না! করিয়। তাহাকে সঙ্গিনী, বন্ধু এবং সহকন্্রী মনে করিবে। 

২। আত্ম-সংযম জীবের ম্বাভাবিক ধর্ম । যখন নিজেদের কাজের 
ফল সম্যকরূপে জানিয়া উভয়ে যৌনমিলনের জন্য ইচ্ছা! করিবে, মাত্র 
সেই অবস্থায় ইহ সমর্থন করা যায়। 

৩। যদি তুমি অবিবাহিত হও, তবে সমাজ, ভোমার ভাবী স্ত্রী ও 
তোমার নিজের মঙ্গলের জন্ত তুমি আপনাকে পবিভ্র রাখিবে। এই 
কর্তৃব্যবোধ বাড়াইলে ইহ! সমস্ত প্রলোভন হইতে তোমাকে নিশ্চিত 
রূপে রক্ষ। করিবে। 

৪। যে অদৃশ্য শক্তিকে আমর! দেখিতে পাই না, কিন্তু অস্তরে 
অন্নভব করি, তিনি সব সময় আমাদিগকে চোখে চোধে রাখিতে- 
ছেন এবং আমাদের প্রত্যেক অপবিত্র চিন্তায় হিসাব রাথিতেছেন-- 

এই কথ! মনে থাকিলে সেই শক্তি তোমাকে সব সময় সাহায্য করিবে। 


,.* মহাত্মা গান্ধী লিখিত 90176908176 ৪1৪03 9612[000129109 
( সংযম বনাদ উচ্ছ,ছলতা ) নাসৰ পুস্তকের ভূমিকা হইতে গৃহীত। 


৫৪ 





শেবকথ! 


«€ | সংযমীর জীবন যাপন প্রণালী ভোগীর জীবন যাপন প্রণালী 
হইতে বিভিন্ন প্রকার হওয়া উচিত। এই জঙ্ত, খাদ্য, বেড়াইবার স্থান 
পাঠ্যবিষয় ও সঙ্গী নির্বাচনে খুব সাবধান হইবে । 

সাধু ও পবিত্র চরিক্র লোকের সংসর্গে থাকিবে। 

দৃঢ় সঙ্কল্প করিয়া ইন্দ্রিয় উত্তেজক উপন্যাস ও মাসিক পত্রা্দি বর্জন 
করিবে এবং যাহা মানবসমাজকে বিপদ হইতে রক্ষা করার উপায় 
নির্দেশ করে, সেইবপ পুস্তকাদি পড়িবে । এমন একখানা বই সব 
সময় কাছে রাখিবে, যাহ! বন্ধুর ন্যায় তোমাকে বিপদে আপদে সাহায্য 
ও স্পথে চালিত করে। 

থিয়েটার ও বায়স্কোপ দেখিবে না। যাহাতে উৎসাহ ও কাজ 
করার শক্তি বুদ্ধি করে তাহাই বিশ্রাম, যাহাতে অবসাদ আনে তাহা 
বিশ্রাম নহে। সার্বজনিক উপাসনায় যোগ দিবে । সেখানকার কথা 
ও সর আত্মাকে উন্নত করে। 

রসন! তৃপ্তির জন্য খাইবে না, ক্ষুধা শাস্তির জন্য খাইবে। অসংযত 
লোকে খাওয়ার জন্য বাচিয়া থাকে, সংযমী লোকে বাচিয়া থাকার জন্ত 
খায়। সব রকম উত্তেজক মশল৷ মদদ প্রভৃতি এবং ভালমন্দ বিচার শক্তি 
যাহাতে লোপ করে, সেইরূপ তামাক গুভৃতি মাদক দ্রব্য বঙ্ন করিবে। 
আহারের সময় ও পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখিবে। 

৬। যখন ইন্দ্রিয় ছুর্দমনীয় হইয়া! উঠে, তখন হাটু গাড়ি! বসিয়া 
সাহায্যের জন্য ভগবানকে ডাকিবে। রামনাম আমার বিশেষ সহায়তা 
করে। এক টব জলে কোমর পর্য্যস্ত ডুূবাইয়া বসিবে, প বাহিরে 
রাখিবে। দেখিবে তৎক্ষণাৎ উত্তেজন। কমিবে । শরীর দুর্বল না হইলে, 
কয়েক মিনিট পর্ধ্যস্ত পা ডুবাইয়া রাখিবে ; তবে ইহাতে ঠাণ্ডা 
লাগার ভয় আছে। " 


ব্রহ্মচর্ধ্য 


৭। শুইবার পূর্বে এবং অতিভোরে ধোল৷ হাওয়ায় ভ্রুত পায়চারী 
করিবে। 

৮। সকালে শুইলে ও সকালে বিছান] ত্যাগ করিলে স্বাস্থ্য ধন 
ও জ্ঞান লাভ কর! যায়, এই প্রবাদটি সত্য। ৯ টায় শুইয়। ৪ টায় 
বিছান! ত্যাগ কর উত্তম। খালি পেটে ঘুমাইবে; এ জন্য সন্ধ্য। 
৬টার পর কখনও খাইবে ন1। 

৯| মনে রাখিও ভগবানের প্রতিনিধি রূপে সমশ্ত জীবের দেব! 
করা এবং এইবূপে ভগবানের মহমা ও প্রেমের কথা প্রচার কর! 
মানুষের ধর্ম । সেবাকেই আনন্দের একমাত্র উপায় বলিয়। জানিও; ইহা 
করিতে পারিলে, তোমার অন্ত কোনো আমোদ প্রমোদ দরকার 
হইবে না। 


ইয়ং ইঙডিয়|, ২৪ মাচ্চ, ১৯২৭-_-মোহনদাল করমটাদ গান্ধী 


সমাপ্ত 


সিডি সাল ক 


প্রীবিনয়কৃষ্ণজ সেন বি-এ প্রণীত ও সঙ্কলিত 
গ্রন্থাবলী 
১। জুইজারল্যাণ্ডের স্বাধীনতা 


সচিত্র দ্বিতীয় সংস্করণ 


পরিবদ্ধিত ও পরিবন্তিত-_-মূল্য %* বার আঁন। 

মনোজ্ঞ গল্পে স্থইস স্বাধীনতার কথ! । উপন্যান অপেক্ষাও মনোরম । 
পাঠে ছোট বড় সকলেই তৃপ্ত হইবেন । 

প্রবাসী-_ভাষা বেশ সরল। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যুগে 
এই জাতী পুস্তকের বিশেষ প্রয়োজন আছে । 

আনন্দবাজার পত্রিক1--স্থইজারল্যাণ্ডের শ্বাধীনতার চিত্তাকর্ষক 
ইতিহাস জাতীয়-মুক্তি-কামনায় উদ্বদ্ধ প্রত্যেক ভারতবাসীর পাঠ কর! 
কর্তবা। স্কুলের বালক-বালিকাদের তরুণ চিত্তে দেশপ্রেমের চেতনা 
জাঁগাইতে ও উচ্চতর ভাবধারার সঞ্চার করিতে এই সরস, চিত্তাকর্ষক 
ও মহত্বপূর্ণ পুস্তকখানি যথেষ্ট সাহাধ্য করিবে । 

বাজলার কথা--ভাষ! সহজ সরল, বর্ণনাভঙ্গীও বেশ ॥ পাঠে 
লাঞ্ছিত উৎগীড়িত জাতির ছুঃথে স্বভাবতঃই সহানুভূতি জাগিবে ও 
স্বাধীনতাম্পৃহ! প্রবল হইয়। উঠিবে। পুস্তকখানির ছাপ! ও বাধাই সুন্দর । 

ক-_বালক যুবক সকলেরই অন্থপ্রেরণার বস্ত-্জান! ও 

পড়া উচিত। 

হিন্ু মিশন-_এই পরাধীন জাতির মুক্তির কথা হইতে মুক্তি- 
প্রয়াসী ভারতবর্ষ অবশ্যই প্রভূত প্রেরণা লাভ করিবে। বইখানির 
বনুল-গ্রচার কামনা করি । 

সঞ্জীবনী-_বিষয় মনোজ, বিনয় বাঁবুর ভাষ। চিত্তাকর্ষক । সৃতরাং 
ষে ইহ! পাঠ করিবে সেই পরিতৃপ্ত হইবে। 

মোকাম্মদ্ী--সকলের পাঠ করা উচিত। 

আচাধ্য প্রফুজচজ্ রায়--তৃপ্তির সহিত পাঠ করিয়াছি। একপ 
স্বদেশ প্রেমোদ্দীপক পুষ্তভক বাংল1 ভাষাম় যতই প্রচারিত হয় ততই 
মঙ্গল। | 

ঘ022:0--]615 20 86516550106 10575055 20 39702511 রি 
21) 857 5015 200. 91001 0০ 15201) 001 70079 8120 21115. 


ঢা? 


২। বিপ্লবের আন্তি 


টলষ্টয় অবলম্বনে--সুন্দর বাঁধাই, মুল্য ১২ এক টাকা 


রুশ বিপ্লববাদীদের নির্যাতন কাহিনী ছবির মত ফুটিয়া উঠিয়াছে। 
রুশ আমপাতন্ত্রের অন্ধ অবিচারে দেশহিতব্রত সর্বত্যাগী যুবকগণের 
দেহপ্রাণ কিবূপে নিপীড়িত হইয়াছে, মানব মনের সহজ দয়া প্রেম ও 
পবিত্রতা কিরূপে ব্যর্থ করা হইয়াছে তাহা! অপূর্ব নিপুণতার সহিত 
প্রত্যক্ষ্যবৎ দেখান হইয়াছে । নিজ্জন কারাগারের অন্ধকারের চাপে 
মান্থষের মন কিভাবে ধীরে ধীরে অপ্রকৃতিস্থ হইয়া যায়, সরু ছড়ির পুনঃ 
পুনঃ আঘাতে কেমন করিয়া মানুষের প্রাণ “আইন সঙ্গত” উপায়ে 
বাহির কর! হইত, তাহার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা] আছে। নিষ্ঠরতার এই 
ঘন ছুর্য্যোগের মধ্যে পুরুষের বীধ্য, জননীর স্মেহ এবং রমণীর প্রেম 
বিছ্যুতের মত ক্ষণে ক্ষণে উকি মারিয়া যাইতেছে । 


প্রবাসী-_'মনীবি টলষ্টয় লিখিত ছুইটি গল্পের অন্রবাদ এই পুস্তকে 
আছে । অনুবাদ ভাল হইয়াছে । আমাদের দেশাত্মবোধক গ্রন্থমালায় 
বইখানি বিশেষ স্থান অধিকার করিবে । ছাপা ও বাধাই ভাল। 


অস্কভবাজার পন্্রিকা-_অনুবাদ অতি সুন্দর হ্ইস্বাছে। 
মূল গ্রস্থের সৌন্দর্য্য সম্পূর্ণরূপে বজান্র আছে। 


মাতৃমন্ষির--অনগবাদ বেশ প্রাঞ্জল। পুস্তকের ছাপা, কাগজ 
বাধাই চমৎকার । 


আ6০17০-305 0০০989 27 03605911 879 ০০৮ 17000761005 ; 
09 01061081078 09 89 2 09108710110 1701) 1006) 8]] 10 1796 
16 19 1179 0691 17811918150) 01 009 01 609 27986951% ৪010025 
2100 96619 10 170818 1119 27696 11)0001)6 01 2 21696 (01010 
8৪581181019 10 079 38089]1 চ৮01]0. 7০ 00078601969 009 
80670021020 1019 1191) চ৪121078, 


৩। হিন্দ্ু-সংগঠন 


সচিত্র__মুল্য ৯ এক টাঁকা মাত্র 

হ্যায় বু, ধন-সম্পদ-বিষ্ঞ।-বৃদ্ধি-জ্ঞান-বিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ হইয়াও 
হিন্দু কেন বর্ধর আরব, তুকণা, পাঠান মোগল দস্থ্যদলের চরণে স্বাধীনতা 
বিসজ্জন দিয়াছল; কিরূপে নিরাশার ঘন অন্ধকারের ভিতর শিবাজী, 
গুরুগোবিন্্ প্রভৃতি মহাপুরুষ মৃতপ্রা্থ হিন্দু জাতিকে উদ্ধদ্ধ ও 
শক্তিশালী করিয়াছিলেন; কিরূপে হিন্দুকে শুদ্ধি-সংগঠনের সাহায্য 
আবার জগতে আত্ম রতি লাভ করিতে হইবে তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত 
ইহাতে পাইবেন । 

প্রবাসী- ইতিপূর্বে গ্রন্থকার কয়েকখানি সুচিন্তিত গ্রস্থ লিখিয়া 
চিন্তাশীল পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছেন। আলোচ্য পুম্তকথানিতে 
তিনি সর্বাপেক্ষা অধিক চিস্তাশীলতা, গবেষণা ও দেশাত্মবোধের 
পরিচয় দিয়াছেন। প্রাচীন কাল হইতে আজ অবধি হিন্দু জাতির 
গঠন ও সমাজ ব্যবস্থার সুন্দর পরিচয় এই গ্রন্থে পাওয়া! যায়। প্রত্যেক 
হিন্দু যুবক এই গ্রস্থখানি পাঠ করিয়া, তাহার হিন্দুত্ববোধ উদ্ধদ্ধ করুন 
এবং হিন্দুর শক্তির স্বব্ূপ উপলব্ধি করুন । 

আনন্দবাজার পত্রিক1-__এই গ্রন্থ পড়িয়। বর্তমান যুগের হিন্দুরা 
য্রি নিজেদের শোচনীয় হুর্গতি ও ভয়াবহ ভবিষ্যৎ বুঝিস্বা আত্মরক্ষার্থ 
জাতিরক্ষার্থ গুবুদ্ধ হয়, কাধ্যক্ষেত্রে যথাযোগ্য উপায় অবলম্বন করে, 
তবেই গ্রস্থকারের শ্রম সার্থক হইবে। 

বাজলার কথা-_গ্রধুক্ত বিনয়কুষ্জ সেন এই গ্রন্থখানি সঙ্কলন 
করিয়া হিন্দু-সমাজের বিশেষ. উপকার করিয়াছেন। 

হিন্দু-শিক্ষিত নরনারী মাত্রেরই এই পুম্তকথানি পাঠ করা 
কর্তব্যস্-গ্রামে গ্রামে অশিক্ষিত সমাজের মধ্যেও শিক্ষিতদের ইহ! 
গড়িয়া শোনান কর্তব্য । 

প্রবর্তক-__হিন্দুজাগরণ সম্বন্ধীয় নানাপ্রয়োজনীয় তথ্যপূর্ণ এই 
মুল্যবান বইখানি সত্যই হৃদয়ের দরদ দিয়া গ্রস্থকার লিখিয়াছেন। 
'হন্দু-সংগঠন মুলক মহাপ্রশ্নটিকে ইতিহাস তথ্য ও ভাবুকতার বিচিত্র 
দিক দিয়! চিত্ত) ও সমাধান চেষ্টার পরিচয় এই বইখানিতে পাইয়া 
আমর! সত্যই প্রীত ও উপকৃত হইয়াছি। বইখানি বাঙ্গালী হিন্দুর 
ঘরে ঘরে স্থান পাউক। 


সঃ 


৪। অস্পৃশ্যের মুক্তি 


( মহাত্ব! গান্ধী লিখিত ) 
মূল্য ॥« বার আন । 


আত্মশক্তি-_মহাত্মাজী “ইয়ং ইত্ডয়া ও “হিন্দী নবজীবনে” 
অস্পৃষ্ঠ তা সম্বন্ধে যে আলোচন। করিয়াছেন তাহ! বাংলায় ভাষাস্তরিত 
করিয়া বিনয়বাবু সাহিত্য ও সমাজের বিশেষ উপকার করিলেন। 

আনন্দবাজার পত্রিক।-_-আশ! করি পুস্তকখানি বাঙ্গলার ঘরে 


জাতীয় গীতার ন্তান্ব প্রচারিত হইবে। 
প্রবাসী-__এই কাজ করিয়া! িবনয়বাবু বাংলা দেশের উপকার 


করিয়াছেন। আপামর বাঙ্গালী হিন্দু পুস্তকটী পাঠ করুন। 
হিন্দুসভব--এই পুস্তক প্রকাশ করাতে দেশের ও জাতির খুবই 
মঙ্গল সাধিত হইবে। 
প্রবর্তক-_“অল্পৃশ্টের যৃক্তি* যুগদেবতার বাণী_তাহার বজ্রকঠিন 


আদেশ মন্ত্র। সকলেরই পড়া উচিত। 
ফরওয়ার্ড__সব শ্রেণীর লোকের মধ্যে এই পুস্তকের বহুল প্রচার 


হওয়1 দরকার । 
দৈনিক বন্থমভী-_-আমাদের বিশ্বাপ এই পুম্ভক সর্বাত্র আদৃত 


হইবে। 
আচার্য্য প্রফুন্চজ্জ রায়- পুস্তখানি বেশ সময়োপযোগী 


হইয়াছে ॥। পাঠ করিয়। বিশেষ প্রীতি হইলাম। 

ছিম্ছু-_বাংলার ঘরে ঘরে এই বইখানি প্রচারিত হইলে জাতীয় 
শক্তি বৃদ্ধি পাইবে এবং সমাজ-জীবন স্থদ্ন্ঢ শক্তিসম্পন্ন হইবে । মহাত্মার 
এতগুলি লেখ! একসঙ্গে বাংলায় উপহার দেওয়ার জন্য বিনয়বাবু অশেষ 
ধন্তবাদ ভাঁজন। বাংলার হিন্দুদের ঘরে ঘরে আমরা এই মূল্যবান 
্রস্থের প্রচার দেখিতে চাই । 


ন্বিম্বন্ব! নিশা 
( মহাত্ম। গান্ধী লিখিত ) 
চতুর্থ সংক্করণ__ মূলা দশ পয়সা, 


মহাত্মা গান্ধীর লেখার অনুবাদ ভিন্ন বিধবা-বিবাহ সন্ধে শা্ীয প্রমা,। 
সরকারী আইন প্রভৃতি অনেক প্রয়োজনীয় বিষয় ইহাতে আছে। ; 


প্রবাসী-করুণা ও ত্যাগের মূর্তি মহাত্ম। গান্ধী ভারতের ্ 
বয়স্ক। বিধবাদের জন্ত ঘুঃখ বোধ করিয়া তাহাদের ক্লেশমুক্তির জন্ত এ, 
সব চিন্ত। করিয়াভেন তাহা তাহার 'নবজীবন? ও “ইয়ং ইত্ডিয়া” পত্রে : সু 
প্রবন্ধে প্রকাশিত হইয়াছে। আলোচ্য পুস্তকে সেই প্পরবন্ধাগুির: 
একত্রিত বঙ্গানুবাদ প্রদত্ত হইয়াছে । বিধবাদের ছুঃখ মোঁচনের ভন্ভ' 
বাহাঁরা চিন্তা করিতেছেন এই সারবান যুক্তিপৃ্ণ পুস্তক তাহাদের পঠ 
করা কর্তৃব্য। 


বাঙ্গালার কথা-_মহাম্ম। গান্ধীর প্রবন্ধ গুলি বাঙ্গালা ভাষায় অন্ুব ৭ 
করিষা বিনয়বাবু বাঙ্গালী হিন্দু সমাজের গ্রক্কৃত হিত করিয়াছেন 


 শাহিন্দু-- প্রত্যেক হিন্দু নরনারীই এই ছোট বইখানি পাঠ করিয়ে 
উপক্কত হইবেন সন্দেহ নাই। পুস্তকখানির বহুল প্রচার কামনা করি; 


্ 
. আত্মশক্তি-__পুস্তকথানি ক্ষুদ্র হইলেও ইহাতে জানিবার ৮ 
শিখিবার ব্ষিয় অনেক আছে। পুস্তকের কলেবর দেখিয়! মূল্য শশী 
মনে হইল। . 


হিন্দু সঙ্ঘ-_ মহাত্মা গান্ধীর প্রবন্ধগুলি বাঙ্গালায় অন্বাদ কমি 
বিনয়বাবু সমাজ ও সাহিত্যের যথেষ্ট উপকার করিয়াছেন। রা 
যুগে এই প্রকার পুস্তক্ষের বিশেষ প্রয়োজন..আছে। 


থা টো 


তরুণ সাহিত্য-মান্দির 
১৯নং শ্রীগোপাল মল্লিক লেন, কলিকাত। ।